FIFA World Cup, England vs Argentina: পয়া নীল জার্সিতেই ব্রিটিশ বধ, টানা দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা!
Lionel Messi: এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুট পাওয়ার প্রবল দাবিদার মেসি। কারণ, ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১২টি অ্যাসিস্ট রোজারিওর রাজপুত্রের, যা তাঁকে অনন্য এক রেকর্ডের সম্মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই জয়ের ফলে টানা দুই বার বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিরা।

ইংল্যান্ড – ১ (অ্যান্টনি) : আর্জেন্টিনা – ২ (এনজো, লাউতারো)
আটলান্টা : বেশি নয়, দশটা বছর পিছিয়ে যান। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালের পর মেসির (Lionel Messi) ওই কান্না আজও চোখে ভাসে ফুটবলবিশ্বের। কিন্তু তারপর? অসহ্য ট্রোল, মিম, কদর্য আক্রমণে যেন ভেসে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। ‘অবসরের নাটক’ থেকে শুরু করে ‘নকল কান্না’ – বাদ যায়নি কিছুই। সেখান থেকে ২০২২ পরবর্তী ফুটবল বিশ্বের কথা ভাবুন। আর্জেন্টিনা জিতলেই ‘ফিফা রিগড’, ‘কমিটির টিম’ , ‘জোর করে জেতানো হচ্ছে’ ইত্যাদি বলা হচ্ছে সমাজমাধ্যমে। মানে, জিতলে খুশিতে ট্রোলিং, হারলে হতাশায়। কিন্তু, তাতে কি আদৌ আর্জেন্টিনার (Argentina) কিছু এসে যায়? মনে হয় না। মেসিরও কিছু এসে যাওয়ার কথা নয়। যেভাবে আজ তাঁর ডান পায়ের ক্রস খুঁজে নিল লাউতারোর (Lautaro Martinez) মাথা – তাতে মেসিকে ‘জিনিয়াস’ বলতে ক্ষতি কোথায়? তাঁর কাঁধে চড়েই টানা দুই বার বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ১৯৮৬, ১৯৯০ এর পর আবার। আরও একবার।
প্রথমার্ধ থেকেই দুই দল আক্রমণ শানিয়েছিল, কিন্তু গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষই। দ্বিতীয়ার্ধে, ৫৫ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলের দেখা মিলল। মর্গ্যান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্টনি গর্ডন। এরপর থেকেই যেন ইংল্যান্ড গোলকিপারের ভগবান হয়ে ওঠার চেষ্টা। একের পর এক আক্রমন প্রতিহত করেন তিনি। সেই সঙ্গে মানতে হবে ভাগ্যের কথাও। ৫ মিনিটের মধ্যে জোড়া আক্রমণে জোড়া শটই পোস্টে লাগে আর্জেন্টিনার।
তবে ম্যাচের শেষ ৫ মিনিটের জন্যই যেন যাবতীয় নাটকের উপকরণ জমা ছিল। মেসির পাস থেকে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। সেখান থেকেই বক্সের বাইরে তাঁর দুরন্ত শটে সমতা ফেরাল আর্জেন্টিনা। আবার গোল পেলেন এই চেলসির মিডফিল্ডার। ৯০+২ মিনিটের মাথায় আবার মেসি ম্যাজিক। ডানপ্রান্ত থেকে তাঁর ডান পায়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করে বিশ্বব্যাপী আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চিন্তা দূর করেন লাউতারো। ২-১ গোলে জিতল ‘লা আলবিলেস্তে’রা।
এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুট পাওয়ার প্রবল দাবিদার মেসি। কারণ, ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১২টি অ্যাসিস্ট রোজারিওর রাজপুত্রের, যা তাঁকে অনন্য এক রেকর্ডের সম্মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই জয়ের ফলে টানা দুই বার বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসিরা। ২০০২ সালে শেষ সাক্ষাতে হারের বদলা। কিন্তু একটা চিন্তা থেকেই গেল। ১৯৮৬তে বিশ্বজয়ের পর ১৯৯০তে রানার্স হন মারাদোনারা। আবার ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ সালে এই আর্জেন্টিনার কাছেই পরাজিত হয় ফ্রান্স। এবার সামনে অপরাজিত স্পেন। দে লা ফুয়েন্তের রেকর্ড ভেঙে কি আবার বিশ্বমঞ্চে সেরার শিরোপা নেবেন মেসিরা? জানা যাবে রবি রাতে।
