
কলকাতা: ১০ মার্চ তৃণমূলের ব্রিগেড সভা। তার আগে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে কলকাতায় বিশাল মিছিল মহিলা তৃণমূলের। এই মিছিলের পুরোভাগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে মিছিলেন নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল চলেছে ধর্মতলার দিকে। লোকসভা ভোটের আগে এই মিছিল নিঃসন্দেহে শক্তি প্রদর্শনেরও বড় জায়গা।
দেখা হবে ব্রিগেডের গর্জনে। আমি দেখব সেদিন কার কত গর্জন বেশি হয়। ভয়ঙ্কর গর্জন যেন হয়। যাতে দিল্লির বুকটা একটু কেঁপে যায়। বাংলার নামে বদনাম করাটা যেন চেপে যায়। আবার খেলা হবে, দেখা হবে। :মমতা
আমি আজ সুদীপদা, নয়নাকে বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই অনুষ্ঠানের ব্যবস্থার জন্য। সাগরিকা দিল্লি থেকে, সুস্মিতা এসেছে অসম থেকে এসেছেন। আমরা ২টো সিটে কনটেস্ট করছি, কথা বলে নিও। চারিদিকের মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে সন্দেশখালির মেয়েরাও এসেছেন সন্দেশ দিতে। অর্থাৎ মিষ্টি সংবাদ দিতে। আমি ধন্যবাদ জানাই। বাকি কথা গর্জনে হবে। আর গর্জন যখন হবে ধামসা মাদল শঙ্খ কাঁসর, উলুধ্বনি, আজানের ধ্বনি সব হবে। :মমতা
ভাল করে ইভিএমটা চেক করবেন। ওদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০টা জায়গায় নাকি চিপ লাগাচ্ছে। যারা এজেন্ট হবে কাউকে কাউকে টাকা দিয়ে কিনেও নেবেন। নজর রাখবেন ভাল করে। আর মনে রাখবেন যুদ্ধে যারা গদ্দারি করে তাদের ভাল হয় না। মানুষ ক্ষমা করে না। :মমতা
১৮টা এমপি ওদের জিতেছিল। বিজেপি কী করেছে বাংলার জন্য। কাল যে উদ্বোধন হয়েছে সব টাকা আমার দেওয়া। আমি যখন রেলমন্ত্রী ছিলাম প্রতিটা মেট্রো প্রকল্প আমার সময়ে করা। ২ লক্ষ কোটির উপরে দিয়ে গিয়েছিলাম। এগুলো সব আমার সময়ে করা। কেউ শিলান্যাস করে, কেউ উদ্বোধন করে। : মমতা
বাংলার সৌজন্যতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ভাবছেন, অত্যাচার করবেন আর তৃণমূলকে ঢ্য়াড়স ভাববেন। মনে রাখবেন ঢ্যাড়স যেমন আছে কাঁচাকলাও আছে। উচ্ছে করলা সবই আছে। মিষ্টি চিরতাও আছে। কোনটা খাবেন ঠিক করে রাখুন। এখন থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব স্কুল, কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে দাও, স্টেডিয়াম ছেড়ে দাও। বাবুরা ঘুরে বেড়াবে আর বিজেপি করে বেড়াবে। ওদের দেখবেন কিন্তু ফিরে তাকাবেন না। ভয়. পাবেন না। যদি জিজ্ঞাসা করে কাকে কিস কো ভোট দেনা হ্যয়, বলবেন আপকো। আর ভোটটা আপনার নিজের। : মমতা
আমরা আ করলেই আলোচনা হয়, ওরা মেরে ফেললেও কথা হয় না। এজেন্সি পকেটে ভরে সেফ করছেন। তৃণমূলে থাকলেই চোর, বিজেপিতে গেলে ওয়াশিং পাউডার ভাজপা। ওয়াশিং মেশিন ভাজপা। কেউ কেউ তো ভয়ে আবার চলে যাচ্ছে। বাবা ইডি ধরেছে, একদিন বাড়ি গিয়েছে যদি আবার যায়। তাকে ফোন করে গদ্দাররা, ইডির লোকেরাই বলে দিচ্ছে বিজেপিতে চলে যাও হয়ে যাবে। ইডি না সিবিআইয়ের অফিসারের একটা স্টেটেমন্ট দেখছিলাম মিডিয়ায়। বলছে তৃণমূল দেখে দেখে ধরো। :মমতা
আইসিডিএসে আগে ৯০ শতাংশ টাকা দিত। আমাদের ১০ শতাংশ দিতে হতো। এখন আমাদেরই সবটা দিতে হয়। ওনারা নাকি জল পৌঁছচ্ছেন। জমি, পাইপ, মেনটেন করব আমরা, ৪০ শতাংশ টাকা দেব আমরা। বলে বেড়াচ্ছে ঘরে ঘরে জল দিচ্ছি। গ্যাসের দাম বাড়ছে। এরপরও ভোট চাইছেন? একটা কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। :মমতা
আমরা ৫৯ লক্ষ লোককে টাকা দিয়েছি। আমাদের ১০০ দিনের কাজ চলবে। তবে নামটা একটু বদলে দিয়েছি। ওটা কর্মশ্রী। জবকার্ড হোল্ডাররাই কাজ পাবে। এমনিতেও আগে ১০০ দিন বললেও ৩০-৩৫ দিন হতো। ১০০ দিনের কাজ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার পরও আমরা বাংলায় ৪৫ দিন করেছি মনে রাখবেন। গত অর্থবর্ষে। যেটা মার্চে শেষ হবে। ৪৫ দিন যদি আমি করতে আমি ৫০ দিনও করতে পারি। সুতরাং ৫০ দিনের কর্মশ্রীতে ওই কাজ করাব জবকার্ড হোল্ডারদের। নিশ্চিন্তে থাকুন। :মমতা
বিজেপিকে আমি বলি পিন্টুবাবু। বাংলায় ৪৫৪ টিম পাঠিয়েছে। মণিপুরে এত বোন জ্বলে গেল কটা টিম পাঠিয়েছ বিজেপি? :মমতা
আধার কার্ড হঠাৎ বাতিল করে দিল। বাতিল করতে শুরু করল মতুয়াদের। ভোটের আগে বলবে ক্যা ক্যা হবে। তারপরই চিচিং ফাঁক। দেখেছেন আধার কার্ড কাড়তে শুরু করেছিল। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। এনআরসি শুরু করেছিল, রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। আমরা এসব করতে দেব না। মতুয়া নিয়ে যে মিথ্যা রাজনীতি, উত্তরবঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ ভাগের মিথ্যা রাজনীতি আমরা মানব না। :মমতা
খেলাধূলায় যারা জাতীয় স্তরে ও আন্তর্জাতিক স্তরে গোল্ড, সিলভার, ব্রোঞ্জ পাবে, তাদের জন্যও চাকরি ক্যাবিনেটে পাশ করিয়ে দিয়েছি আমি। আজ আমাদের ওয়েবসাইট লঞ্চ হবে, যেখানে দরখাস্ত জমা করবে। :মমতা
দেখলাম দিল্লিতে ২ হাজার কোটি টাকা বাজেটে রাখা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছে ওরা। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি, মডেলটা আমাদের। আমরা কোনও ভেদাভেদ করি না। প্রথমে করেছিলাম কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীরভাণ্ডারও দেখবেন বিশ্বভাণ্ডার হয়ে যাবে। :মমতা
ট্রেনের টাকা নিল ট্রেন দিল না। ১০০ দিনের কাজের জবকার্ড হোল্ডাররা দিল্লি যাবে, টাকা জমা দেওয়া হল। বাতিল করে দিল। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব কাল জিজ্ঞাসা করছে বিজেপির মিটিং আছে কাওয়াখালিতে, ওরা ৪টে জলের ট্যাঙ্ক চাইছে, দেব? আমি বললাম ৪টের জায়গায় ৮টা দে। শুধু বলিস, তোমাদের মতো ট্রেন আমরা ক্যান্সেল করি না। আজ ক্ষমতায় আছো ট্রেন বাতিল করছে, কাল ক্ষমতায় থাকবে না ট্রেন ড্রেনে ঢুকে যাবে। ওই ট্রেনটা হাত থেকে চলে যাবে। ওটা তখন শুধু পেন হবে, গেন হবে আমাদের, মানুষের। :মমতা
বাংলা জাগ্রত। কিছু হলে মহিলারা তেড়েফুঁড়ে বলেন। বাংলা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে জানে। সকলকে বলব আমাদের গর্জন ব্রিগেড আছে ১০ তারিখ। দেশ, বাংলা, মানুষকে বাঁচাতে হলে গর্জন করতে হবে বিজেপির বিরুদ্ধে, তর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক টর্নেডো আনতে হবে, রাজনৈতিক তুফান তুলতে হবে। তাইসকলকে বলব দলে দলে ব্রিগেডে পৌঁছবেন সকাল সাড়ে ১১টা ১২টার মধ্যে। :মমতা
চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই, চাকরি কেড়ে নেন। বলতে পারতেন এর বদলে ওকে দিন। বলতে পারতেন এই প্যানেলটা বাতিল করে আরেকবার ডাকুন। আমার আপত্তি নেই। ভুল থাকে সংশোধন করে নিন। কোনও সুযোগ না দিয়ে ওয়ান সাইডেড গেম। এখনও ৫ লক্ষ চাকরি আমার তৈরি আছে। হিংসুটে বিজেপি, সিপিএম আর কংগ্রেস। এমন কর্কটে বাপ রে! কেউটে গোখরোর থেকে ভয়ঙ্কর। চাকরি দিলেই পিল (PIL) করবে। :মমতা
আমাকে বলছে তোমাদের যা সব রায় বেরোচ্ছে, এ দেখে তো রয়াল বেঙ্গল টাইগাররাও পালিয়ে যাবে ভয়ে। আমি বললাম কেউ কেউ আছেন কী আর করবেন? এরা কেউকেটা। তবে আমি খুশি এদের মুখোশটা বেরিয়ে গিয়েছে। মুখোশ খুলে পড়েছে। মুখ এবং মুখোশ। আমরা প্রথম থেকে বলছিলাম হাজার হাজার চাকরি গিয়ে বড় নেতা হয়ে গিয়েছিলেন। অভিষেককে তো রোজ নাম করে রোজ গালাগালি দিত। অনেক কিছু দেখেছি আমি। আজ কোথায় গেলেন আপনি? কাল থেকে আপনার রায় জনগন দেবেন? আপনি হাজার হাজার ছেলে মেয়ের চাকরি খেয়েছেন। আপনার রায় জনগণ দেবেন। তৈরি থাকুন। আপনি যেখানে দাঁড়াবেন আমি স্টুডেন্টদেরই নিয়ে যাব। স্টুডেন্টরাই লড়াই করবে। যাদের চাকরি আপনারা খেয়েছেন। :মমতা
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। বিচারের চেয়ারে বসে বিজেপি বাবু বিজেপি পার্টির কথা ঘোষণা করছেন। এদের দিকে তাকিয়ে মানুষ বিচার পাবে? আমি বিচারপতি নিয়ে বলতে পারি না, আমি বিচার নিয়ে বলতে পারি। আমিও প্র্যাক্টিস করেছি এক সময়। আইনে কী বেঠিক কী সঠিক আমরাও জানি। :মমতা
আজ বিজেপির কাজ একটাই, তৃণমূলকে কেস দাও, ইডি লাগাও সিবিআই লাগাও জেলে ভরে দাও। আর জোর করে ভোটে জেতো। আমি বলি বাংলা নিয়ে এত গুস্সা কেন? ইতনা গুস্সা কিউ হ্যয়? বদনাম করেন কেন? কালকেও বিজেপি নেতারা বলে গেলেন এখানে মহিলারা নাকি সবথেকে বেশি নির্যাতিত হন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি এখানে মহিলারা সেফ এবং সেফেস্ট স্টেট। বিহারে বিচার হয় না, ইউপিতে বিচার হয় না, রাজস্থানে বিচার হয় না। মণিপুরে মহিলারা জ্বলছিল, নেকেড প্যারেড হচ্ছিল কোথায় ছিলেন বিজেপি নেতারা? আপনারা নারী সম্মানের কথা বলেন, সাক্ষী জলজ্যান্ত প্রমাণ। একজন বক্সার। :মমতা
সন্দেশখালি নিয়ে অনেকে ভুয়ো সন্দেশও দিয়েছেন। সন্দেশ মানে হিন্দিতে বলে সংবাদ। যেভাবে কয়েকটা ঘটনা নিয়ে…। হতেই পারে। হাতের পাঁচটা আঙুল তো সমান নয়। কিছু কিছু জায়গায় অনেক সময় আমাদের নলেজে থাকে না। যদি কোনও কিছু অন্যায় হয়েও থাকে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নলেজে এলে অ্যাকশন নিই। তৃণমূলের কর্মীদের গ্রেফতার করতে কার্পণ্য বোধ করি না। : মমতা
৮ তারিখ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আগামিকাল যেহেতু শিবরাত্রি পড়েছে, তাই আজই মিছিল, বললেন মমতা। প্রত্যেক মহিলাকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন।
মিছিলে মমতার সঙ্গে মহিলা নেতৃত্ব। পা মেলান সাগরিকা ঘোষও। তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছে গিয়েছে। মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
.@BJP4Bengal leader Mukutmani Adhikari joined our party and marched in our rally on the eve of #InternationalWomensDay.
When BJP leaders leave their anti-women party and extend you support, you know that you are on the right side of history.
Breaking political barriers,… pic.twitter.com/K1Dp8KObrL
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) March 7, 2024
তৃণমূলে যোগ দিয়ে মুকুটমণি বলেন, “যে নীতি আদর্শের সঙ্গে মানুষ যুদ্ধ করছে বঙ্গ বিজেপি তা থেকেই ভ্রষ্ট। আমি চাই গন্ডগোল, অশান্তির অবসান হোক। নদিয়ার মানুষের উন্নতির জন্য কাজ করি আমরা।”
মিছিলের আরেকটি রুটে আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই আছেন বিজেপি বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। এদিন এই মিছিলের মধ্যেই সকলকে চমকে দিয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন মুকুটমণি। এরপর অভিষেকের সঙ্গে মিছিলে পা মেলান।
মিছিলের একেবারে সামনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজারা। তৃণমূলের মহিলা বিধায়ক, সাংসদ-সহ কর্মী সমর্থক সকলেই আছেন মিছিলে।