
কলকাতা: তরুণ নেতা প্রতীক-উরের ক্ষোভ, আর তা ঘিরে হাজারও বিতর্ক, যাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরেছেন প্রতীক-উর, সেই রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মুখে কুলুপ আঁটা, শেষে সাংবাদিকদের দেখানো কলার খোসা বিতর্ক। দীর্ঘ দুদিনের প্রতীক-উর নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন সেলিম। মুখ খুলেছেন কলার খোসা বিতর্কেও। শুক্রবার যখন সাংবাদিক বৈঠকে বসলেন মহম্মদ সেলিম, তখন সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। নাম না করেও প্রতীক উরকে নিয়ে একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও রাখেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কথায়, সেলিম না বলেও অনেক কথাই যেন বলে দিয়েছেন। আর তার মাঝেই উঠে আসে কলার খোসা প্রসঙ্গ।
সেলিমের বক্তব্য, “কলার খোসা রাস্তায় পড়ে থাকলে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই তুলে নিতে হয়।” তখনই বৃহস্পতিবারের ঘটনাপ্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কাল আমি একটা জায়গায় যাচ্ছিলেন, পাথরের শান বাঁধানো, সেখানে দেখলাম কেউ কলার খোসা ফেলে রেখেছিলেন। আমি তুলে রাখলাম। আমার গাড়ির চালককে বললাম, ডাস্টবিনে ফেলে দিতে।” তাঁর কথায়, “আমি তো সাংবাদিকদের বলতে পারি না ফেলে দিতে।”
কিন্তু প্রতীক-উর বিতর্ক প্রসঙ্গে সেলিমের এই বক্তব্য, অনেকটাই ইঙ্গিতবাহী বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য। আলিয়া বিশ্ববিদ্য়ালয়ে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার প্রতীক-উর সম্পর্কে একটাও উত্তর দিতে চাননি সেলিম। শেষে সাংবাদিকদের দিকে তাঁকে কলার খোসা উঁচু করতেও দেখা গিয়েছে। বিতর্কের মাঝে এই ঘটনাপ্রবাহ আরও ঝাঁজ বাড়ায়। এদিন সাংবাদিকদের সামনে সে প্রসঙ্গে উত্থাপনের পাশাপাশি বর্ষীয়ান সুবক্তা আরও বেশ কয়েকটি উদাহরণও খাড়া করেন। কলার খোসায় পা পড়লে যেমন পা পিছলায়, খোসা রাস্তা থেকে তুলে ফেলতে হয়! তেমনি অতল গহ্বরে স্বজনদের কেউ তলিয়ে গেলে, অবশ্যই তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে। সেলিম একথা বললেন, সঙ্গে এটাও বললেন, এটাও মাথায় রাখতে হবে, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রক্ষাকারী নিজেও যাতে, সেই গহ্বরে তলিয়ে না যান! রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, তবে কি প্রতীকের নাম না করেও বাকি তরুণ নেতাদের প্রচ্ছন্ন কোনও বার্তা দিলেন সেলিম? নাকি ঠিক এই কারণেই প্রতীক-উরের হাত ধরল না সিপিআইএম। বর্ষীয়ান রাজনীতিকের এহেন উদাহরণে হাজারও ধাঁধা প্রচ্ছন্ন রয়েছে।