Mukul Roy: ‘হ্যাপি রিটার্নস অব দ্য ডে বলতে পারছি না… এত কষ্ট চোখে দেখা যায় না’, মুকুলের কী কঠিন অবস্থা, জানালেন শুভ্রাংশু

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। বিজেপি থেকে টিকিট পেয়েছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে। জিতেও গিয়েছিলেন। পরে তৃণমূল ভবনে গিয়ে যোগদান করেন। সে সব খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এরই মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক মহল কার্যত ভুলতে বসেছে মুকুল রায়কে।

Mukul Roy: হ্যাপি রিটার্নস অব দ্য ডে বলতে পারছি না... এত কষ্ট চোখে দেখা যায় না, মুকুলের কী কঠিন অবস্থা, জানালেন শুভ্রাংশু
Image Credit source: Getty Image

Jan 24, 2026 | 10:19 AM

কলকাতা: কিছুদিন আগেই হাইকোর্টের নির্দেশে বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যায় তাঁর। পরে সুপ্রিম কোর্ট মানবিক কারণে ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর বিধায়ক পদ। কিন্তু পদ থাকছে কি না থাকছে, তাতে কি আর সত্যিই কিছু আসে যায় মুকুল রায়ের? একসময় যাঁর তুখোড় রাজনৈতিক বুদ্ধিকে চাণক্যের সঙ্গে তুলনা করা হত, আজ হয়ত সেইসব ছক বা স্ট্র্যাটেজি ভাল করে মনেও করতে পারেন না তিনি। শাসক দল তৃণমূলের জন্মলগ্নের সাক্ষী সেই মুকুল রায় আজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকেন একা। জন্মদিনে সে কথাই মনে করালেন ছেলে শুভ্রাংশু।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মুকুল রায়। বিজেপি থেকে টিকিট পেয়েছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে। জিতেও গিয়েছিলেন। পরে তৃণমূল ভবনে গিয়ে যোগদান করেন। সে সব খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। এরই মধ্যে বাংলার রাজনৈতিক মহল কার্যত ভুলতে বসেছে মুকুল রায়কে।

২৩ জানুয়ারি ছিল মুকুল রায়ের জন্মদিন। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়। তিনি লিখেছেন, “Many Many Happy Returns Of The Day-লিখতে পারছি না, কারণ তুমি যে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করছ, তা আর চোখে দেখা যায় না।” বাবাকে ‘রিয়েল হিরো’ বলে সম্বোধন করে শুভ্রাংশু লিখেছেন, ‘সমাজ গড়ার ভাবনা সব তোমার থেকেই তো শেখা।’

একসময় মুকুল রায় কীভাবে সংগঠন সামলেছেন, তা সবারই জানা। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে নিয়ে কাজ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে তিনিই ছিলেন ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড।’ আজ যে পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, একসময় সেই পদে থেকে সংগঠন চালাতেন মুকুল। ঠিক ১১ বছর আগে ২০১৫ সালে বদলে যায় সবকিছু। তারপরও রাজনৈতিক সক্রিয়তা এতটুকু কমেনি তাঁর। বঙ্গ বিজেপিতে এলে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পদ পান তিনি। তাঁর হাত ধরে যশ-শ্রাবন্তীর মতো তারকারা যোগ দেন বিজেপিতে। আজ যেন সে সব সুদূর অতীত।

সেই অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মুকুল রায়ের প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু লিখছেন, “এক বেসরকারি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একা একা কষ্ট পাচ্ছ। অথচ এই দিনেই হাজার হাজার মানুষ তোমার চারপাশে ঘিরে থাকত। তাঁদের অনেকেই তোমার দ্বারা উপকৃত ও আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু তোমাকেই ভুলে গিয়েছে কালের নিয়মে।”

কয়েকদিন আগেই অসুস্থ মুকুল রায়ের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যা দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা যে গুরুতর, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।