
কলকাতা: নিয়ম আগেও ছিল। কিন্তু, কর্ম সংস্কৃতির সেই নিয়ম কতটা মানা হত, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ১৫ বছর পর রাজ্যে সরকার বদলেছে। আর সরকার বদলাতেই কর্ম সংস্কৃতিকে কড়া নিয়মে বাঁধতে উদ্যোগী হল নবান্ন।রীতিমতো নির্দেশিকা জারি করে সরকারি দফতরগুলিতে কর্মীদের যাওয়া-আসার সময় বেঁধে দেওয়া হল। একেবারে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হল, কাজে কোনও ফাঁকি বরদাস্ত করা হবে না। সকাল ১০টায় দফতরে আসতে হবে। এবং কোনওমতেই ৫টার আগে বেরনো যাবে না। নিয়ম মেনে চলতে হবে।
কেন নতুন নির্দেশিকা জারি?
সরকারি দফতরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তাঁদের কাজ সহজে হয় না। এই অভিযোগ অনেকদিনের। সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কাজে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। কড়া নিয়ম অবশ্য বরাবরই ছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হবে কর্মীদের। এই নিয়ম আগের সরকারেও ছিল। অভিযোগ, সেই নিয়মের ফাঁকও ছিল। নিয়ম যে ঠিকমতো মানা হত না, সেকথা আড়ালে স্বীকার করেন অনেক অফিসারই।
এবার আর তা করলে হবে না। নতুন সরকার আসার পরই কড়া নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিল নবান্ন। সব সচিবালয়ের অফিসারদের নিয়ম মেনে কাজের নির্দেশ দেওয়া হল। নবান্ন থেকে শুরু করে রাজ্যের সব সরকারি দফতরে কর্ম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে আবার নতুন করে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
গতকাল সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “সরকারের কাজ সরকারের মতো করুন। সকলে যেভাবে সরকারি কাজ করে, সেই ভাবেই সরকারি কাজকে মান্যতা দিতে হবে।” এমনকী, তিনি এও বলেছিলেন, “মাথা উঁচু করে কাজ করুন। কোনও সমস্যা হলে সরাসরি বলবেন। ভয় পাবেন না। আলাদা করে অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই।” মুখ্যমন্ত্রীই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সরকারি কর্মীদের এবার নতুন উদ্যমে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এবার নির্দেশিকা জারি করে সেটাই স্পষ্ট করে দিল নবান্ন।