
কসভা নির্বাচনের আগে মঙ্গলবারই বাংলায় শেষবার প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষ দফার ভোট আগামী ১ জুন। কলকাতার দুই কেন্দ্র সহ মোট ৯ কেন্দ্রে রয়েছে ভোট। তার আগে মোদীর জনসভা ও রোড শো ঘিরে বিজেপি কর্মীদের উৎসাহ চরমে।
উত্তর কলকাতায় শুরু হল নরেন্দ্র মোদীর রোডশো। হুডখোলা গাড়িতে মোদীর সঙ্গে আছেন বিজেপির উত্তর কলকাতার প্রার্থী তাপস রায় এবং দমদমের প্রার্থী শীলভদ্র দত্ত। আছেন বঙ্গ বিজেপির দুই সেনাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীও।
শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজি মূর্তিতে মালা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
#WATCH | West Bengal: Prime Minister Narendra Modi pays floral tribute at the statue of Netaji Subhas Chandra Bose, in Kolkata. pic.twitter.com/qBCxY3zmV3
— ANI (@ANI) May 28, 2024
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কর্মসূচি প্রায় ১ ঘণ্টার মতো পিছিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়িতে। এখান থেকেই সরাসরি রোড শো-তে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
#WATCH | West Bengal: Prime Minister Narendra Modi visits Sri Sri Sarada Mayer Bari Temple in Kolkata and offers prayers. pic.twitter.com/T65k2aYTWo
— ANI (@ANI) May 28, 2024
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর কলকাতায় তাপস রায়ের সমর্থনে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রোডশো। শ্যামবাজারের মোড় থেকে ১.৯ কিমি রাস্তা পাড়ি দিয়ে সিমলা পাড়ায় স্বামী বিবেকানন্দর বাসভবনে আসবে রোডশো। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি আছে। মোদী আসার আগেই, তাঁকে এক ঝলক দেখার লক্ষ্যে, সিমলা পাড়া ভিড়ে ভিড়াক্কার।
দুই প্রার্থীর সমর্থনে মোদী বলেন, “অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় আমার দীর্ঘদিনের সঙ্গী। আর দক্ষিণ কলকাতার প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবেন এরা।”
মোদী সরকার দেশকে বিশ্বের মধ্যে ট্যুরিজম ও টেক্সটাইল হাব হিসেবে তৈরি করতে চাইছে। এমনটাই বললেন মোদী। নয়া ভারতে পরিবহন থেকে কর্মসংস্থান, সব ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন আসবে, সে কথা উল্লেখ করেছেন মোদী।
অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভায় গিয়ে মোদী বলেন, “তৃণমূলের কাছে দেশ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই, বাংলা নিয়েও কোনও পরিকল্পনা নেই। কিন্তু মোদী সরকার বিকশিত ভারতের কথা বলছে।”
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে যে নগদ টাকা উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা, তা মনে করিয়ে দিয়ে মোদী বলেন, “তৃণমূলের নেতাদের কাছে যে নোটের পাহাড় দেখা গিয়েছে, সেই সব টাকার হিসেব হবে। কীভাবে ফেরত পাবেন তা আমি দেখছি, আইন তৈরি করে সেই টাকা ফেরত দেব।”
বিস্তারিত পড়ুন: ১৪-তে বলেছিলেন, ‘না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’, ২৪-এ নতুন গ্যারান্টি মোদীর
মানুষকে দেওয়া গ্যারান্টি বোঝালেন মোদী। সভা থেকে তিনি বলেন, “মোদী সরকার শুধু ঘরই দিচ্ছে না। ঘরে বিদ্যুৎ, শৌচাগার, গ্যাস সবই দিচ্ছে। জীবনধারণের সব ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আগামী ৫ বছর ধরে মোদী বিনামূল্যে চাল দেবে। আপনাদের বিদ্যুতের বিল শূন্য করে দেবে মোদী।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল মা-কে ভয় দেখাচ্ছে, মাটির অপমান করছে। মহিলা বিধায়ককেও নিশানা করছে। ভোট না দিয়ে তৃণমূলকে শাস্তি দিন।” বললেন মোদী। তাঁর দাবি, সিএএ নিয়ে বিরোধিতা করা সত্ত্বেও মোদী ভয় পায়নি। কার্যকর করাও হয়েছে। এবার তৃণমূল সিএএ নিয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মোদী।
সন্তদের অপমান করার অভিযোগ তুললেন মোদী। বলেন, ‘রামকৃষ্ণ মিশনের সন্তকে অপমান করা হচ্ছে। শুধু ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করার জন্য করা হচ্ছে। সন্দেশখালির বোনেরা বিচার চেয়েছিল। তৃণমূল তাদেরই নিশানা করেছে।’
ওবিসি ইস্যুতে সরব প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “ভোট ব্যাঙ্ককে তোষণ করাই বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য। বাংলায় তৃণমূল ওবিসি-দের ধোঁকা দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট বলেছে ৭৭ মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি ঘোষণা করা অসাংবিধানিক। অর্থাৎ তৃণমূল লক্ষ লক্ষ ওবিসি-র অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। আর হাইকোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন, তা তো শোনাই যাচ্ছে। বিচারপতিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রশ্ন করতে চাই, বিচারপতিদের পিছনেও কি আপনারা গুণ্ডা লাগিয়ে দেবেন?” তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সত্যিটা মেনে নিতে পারে না।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “আগে বলেছিলাম, না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। কথা রেখেছি। কেন্দ্রে কোনও দুর্নীতি হতে দিইনি গত ১০ বছরে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বলছি, যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের বের করে দেব আর যাদের থেকে খেয়েছে, তাদের সব ফিরিয়ে দেব।”
মোদী বলেন, “গত ১০ বছরে বিজেপি সরকার পূর্ব ভারতের জন্য যত টাকা খরত করেছে, তা গত ৬০-৭০ বছরেও হয়নি।” রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। এর ফলে আয়ের উৎস বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গের সম্পদের কথা বলতে গিয়ে, মোদী বলেন, একদিকে কয়লা আছে, বন্দর আছে। বাংলা একসময় লক্ষ লক্ষ দেশবাসীর রোজগারের উৎস ছিল বলেও উল্লেখ করেন মোদী। তিনি বলেন, “এখন কারখানা বন্ধ হয়ে আছে। শ্রমিকরা চলে যাচ্ছেন। বাংলার এমন দুর্দশা করল কারা, আমি জানতে চাই। প্রথমে কংগ্রেস, তারপর সিপিএম লুঠ করেছে। আর এখন তৃণমূল দু হাতে লুঠ করছে।”
সাইক্লোনের গতিবিধিতে একটানা নজর রেখেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সবরকমের সাহায্য করেছে কেন্দ্র। রেমাল-তাণ্ডবে পর রাজ্যে এসে বললেন মোদী।
বারাসতের বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদারের সমর্থনে সভায় হাজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত রয়েছেন বসিরহাটের প্রার্থী রেখা পাত্রও।
অশোকনগরের হরিপুর মাঠের সভাস্থলে থাকবেন মোদী। সভা শেষে অশোকনগর থেকে বারুইপুরের সভাস্থলের দিকে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বারুইপুরে সাগর সঙ্ঘ মাঠে হবে সভা। বারুইপুর সভাস্থল থেকে সোজা যাবেন রেসকোর্স হেলিপ্যাডে। সেখানে নেমে চলে যাবেন শ্যামবাজার। উত্তর কলকাতার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর রোড শো হবে। তার আগে সেজে উঠেছে রাস্তা।