e

কলকাতা: নিখোঁজ এখনও অনেক। শুক্রবার রাতের দিকে অকুস্থল থেকে আরও দু’জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে দমকল ও পুলিশের যৌথবাহিনী। মৃতের সংখ্য়া বেড়ে পৌঁছেছে ২৭-এ। এই আবহেই নাজিরাবাদের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল বারুইপুর জেলা পুলিশ। তাও আবার এক সপ্তাহ পরে। এতদিন পর কেন আচমকা সক্রিয়তা, সেই নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
গত রবিবার গভীর রাতে জ্বলতে শুরু হয়েছিল আনন্দপুরের নাজিরাবাদের কারখানা। রাত ৩টের সময় আগুন লাগে কারখানার গুদামে। তারপর টানা ৩২ ঘণ্টা। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে ময়দানে নেমেও নাজিরাবাদের কারখানার আগুনকে সহজে দমাতে পারেনি দমকলবাহিনী। ১২টি ইঞ্জিনের লাগাতর প্রচেষ্টা। ভিতরেই জ্বলেছে শ্রমিকরা। লেলিহান অগ্নিশিখা এতটাই আগ্রাসী যে আর্তনাদ কানে আসেনি কারওর।
আনন্দপুরের ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহের মাথায় অবশেষে সিট গঠনের সিদ্ধান্ত বারুইপুর জেলা পুলিশের। সব কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। এবার সেই পুড়ে খাক হওয়ার কারখানায় তদন্ত করবে পুলিশ। গঠন হয়েছে পাঁচ সদস্যের দল। তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের এসপি শুভেন্দু কুমার। এছাড়াও থাকছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি ক্রাইম, ডিইবি ইন্সপেকটর এবং আরও এক ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক।
এতদিন পর সিট গঠনের কেন প্রয়োজন হল? কেটে গিয়েছে এক সপ্তাহ। অগ্নিকাণ্ডের পরেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে নামজাদা মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থা। গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন। অভিযোগ উঠেছে জলাভূমি বুজিয়ে কারখানা তৈরির। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখা, ডিএনএ টেস্টে জোর দেওয়া, কারখানায় কী কী অব্যবস্থা ছিল — সবটাই তদন্ত করবে সিট। বলে রাখা প্রয়োজন, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে নামজাদা মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার ম্যানেজার এবং ডেপুটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানা।