
কলকাতা: বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না! কার্যত আবারও এক বেনজির নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দু দিন আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিশন জানাল, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেরনো যাবে না। বাইক মিছিল তো করাই যাবে না, সেই সঙ্গে খুব জরুরি দরকার ছাড়া বাইক নিয়ে বেরনো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়।
প্রথম দফা ভোটের ঠিক দু দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হল কমিশনের তরফে। এর আগে কখনও নির্বাচনে এভাবে বাইক চলাচল নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও বাইক র্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না। শুধুমাত্র হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন, সন্তানকে স্কুল থেকে আনার প্রয়োজনে রাস্তায় বাইক নিয়ে বেরনো যাবে। প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনেও কাউকে বসানো যাবে না।
ভোটের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট দিতে যাওয়ার জন্য ও কোনও জরুরি প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বেরনো যাবে। যদি এর বাইরে কারও বাইক নিয়ে বেরনোর প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্দিষ্ট থানা থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
অ্যাপ নির্ভর বাইক ও ফুড ডেলিভারি সংস্থার বাইকের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কমিশনের তরফে।
অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল বলছে, ‘সুপার এমার্জেন্সি চালু করেছে। মানুষের জীবন-জীবিক চলে এই বাইকে চেপেই।’ সেটা কেন নির্বাচন কমিশন বন্ধ করে দিচ্ছে, প্রশ্ন তোলে তারা। তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার নির্দেশিকা বেরনোর পরই বলেন, “সুইগি, জোমাটো-তে বহু মানুষ ডেলিভারি করে। সেই জীবিকাতেও কি এবার কোপ দিতে চাইছে কমিশন? জ্ঞানেশ কুমার কী করতে চাইছেন?” পরে কমিশন অ্য়াপ বাইকে ছাড় দেওয়ার কথা জানায়। কমিশনের দাবি, শান্তিপূর্ণ ভোটের উদ্দেশেই এই ব্যবস্থা।
এছাড়া, ভোটের আগে থেকে রাজ্যের সীমান্ত অঞ্চলে যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ভোটে বাইক নিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ধরনের ঘটনা এড়াতেই এবার কমিশন এই কড়া ব্যবস্থা করেছে বলে জানা যাচ্ছে।