
কলকাতা: ভিক্টোরিয়ার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি মঞ্চে ওঠার আগেই চারিদিক থেকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান উঠতে থাকে। তারপরই মাইক হাতে নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা।
দমদম বিমানবন্দরে নামল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বিমান। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী (Netaji Birth Anniversary) উদযাপন করতে প্রধানমন্ত্রী পা রাখলেন কলকাতা। দুপুর ঠিক ২টো ৩৮-এ নামে তাঁর বিমান। বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে সোজা রেস কোর্সে চলে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে যাবেন নেতাজী ভবনে। এরপর ন্যাশনাস লাইব্রেরি হয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যাবেন তিনি। সেখানেই নেতাজীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ভাষণ দিতে পারেন সেখানে।
গতকাল পর্যন্ত নেতাজী ভবনে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচিতে তা যোগ করা হয়। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে আসার আগে গতকালই বাংলায় একটি টুইট করেছিলেন প্রধানমবন্ত্রী। এদিন অসম হয়ে রাজ্যে আসছেন তিনি। সেখান থেকে বিমানে ওঠার আগেও টুইট করে মোদী লেখেন, “পরাক্রম দিবস উদযাপন করতে এবং নেতাজী বোসকে শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।”
প্রধানমন্ত্রীর নেতাজী ভবন যাত্রার আগে সেখানে নিরাপত্তার আঁটসাটো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড ও এনএসজি কমান্ডোরাও পৌঁছে গিয়েছে। আগাম প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হাজির হয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। উপস্থিত রয়েছেন নেতাজীর প্রপৌত্র তথা বিজেপে নেতা চন্দ্র বসু। এখান থেকেই ন্যাশনাল লাইব্রেরির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম জীবনী নিয়ে ভিক্টোরিয়ায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে ভাষণ শুরু হওয়ার আগেই চতুর্দিক থেকে হই-হট্টোগল শুরু হয়। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান উঠতে থাকে মুহুর্মুহু। মাইক হাতে ক্ষোভ নিয়ে মমতা বলেন, “কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে ডেকে এভাবে বেইজ্জত করার কোনও মানে হয় না। একটা শালীনতা থাকা দরকার। আমার কিছু বলার নেই।” তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটা সরকারী অনুষ্ঠান। একটা ডিগনিটি থাকা উচিত। কাউকে ডেকে নিমন্ত্রণ করে অপমান করা উচিত নয. এই প্রতিবাদে আমি কিছু বক্তব্য রাখছি না।”
“আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দারিদ্র্য়, অশিক্ষা ও অস্বাস্থ্য়। আমার শান্তি যে আজ দেশে সকল কৃষক বীজ থেকে বাজারের সুবিধা পান, প্রত্যেক গরীব স্বাস্থ্য় পরিষেবা পান। প্রত্যেক যুবক শিক্ষা পান, কর্মসংস্থান পান তার ব্যবস্থা চলছে।
নেতাজী হয়ত দেখে খুশি হতেন, ভারত এত বড় একটা মহামারির মোকাবিলা করেছেন।”
৫টা ৪৫ মিনিটে ভাষণ শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
“নেতাজীর কাজ, লক্ষ্য দেশকে আত্মনির্ভর করেছে। এইজন্যই দেশ এগিয়ে যাচ্ছ। নেতাজী যে পুরুষার্থের কথা বলেছেন যা আমাদের সাহস ও বীরত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের আত্মশক্তিতে ভরপুর হতে হবে। নিজের প্রতি যদি কেউ সত্য়বান হয়, তবে সে দেশের প্রতি অসৎ আচরণ করতে পারবে না। নিজের শক্তি হারিও না। ভারতের শক্তিতে আস্থা রাখো। বিশ্বের এমন কোনও শক্তি নেই যা ভারতকে আত্মনির্ভর হতে আটকায়।” প্রায় পুরোটাই বাংলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
“আমরা প্রত্যেক বছর নেতাজীর জন্মজয়ন্তী পরাক্রম দিবল হিসেবে পালন করব। নেতাজী আমাদের পরাক্রম ও প্রেরণা।আমাদের দেশের আত্মনির্ভরতার প্রতীক নেতাজী। উনি স্বাধীনতার জন্য আজাদ হিন্দ ফৌজকে সংগঠিত করলেন। রানি ঝাঁসি রেজিমেন্ট বানিয়ে মহিলাদের এগিয়ে আনলেন সমাজের সামনে। এখান থেকেই জাতীয় স্তোত্র পেয়েছে দেশ।” রামমোহন থেকে রামকৃষ্ণ, সকল বাঙালি মনিষীদের নাম মোদীর মুখে।
‘জয়হিন্দ’ বলে বক্তব্য শুরু প্রধানমন্ত্রীর।
তিনি বলেন, “আমি আমার মাথা নীচু করে এই বীর পুত্রকে প্রণাম করছি। প্রণাম জানাই এই বীর পুত্রকে যিনি জন্ম দিয়েছেন তাঁকেও। আজকের দিনেই আত্মগৌরবের জন্ম হয়েছিল। আজ কলকাতায় আসার আবেগঘন মুহূর্তে বুঝেছি, এখানকার মাটি বৈরাগ্য, সহিষ্ণুতা ও সেবার ভূমি।”
নেতাজীর জন্মজয়ন্তী উদযাপনে একটি ডাকটিকিটের উদ্বোধনও করেন মোদী।
নেতাজী জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধনী ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং পটেল। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, যতদিন না তাঁর অন্তর্ধান রহস্য উন্মোচন হচ্ছে ততদিন ন্যায় করা যাবে না।
নেতাজীর জন্মজয়ন্তী উদযাপনে একাধিক সাংস্কৃতিক ও বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ভিক্টোরিয়ায়। প্রায় ১০০-র উপর কচিকাঁচারা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ‘সুভাষজী’ গেয়ে শ্রোতাদের মন মুগ্ধ করেন বলিউডের বিখ্যাত গায়ক পাপন। এখন গাইছেন উষা উত্থুপ। যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে গেয়ে ওঠেন তিনি।
ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সেমিনারে অংশ না নিয়েই সোজা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৪টা ১৬তে ভিক্টোরিয়াতে হাজির হন তিনি। উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। প্রায় ১০ মাস পর একসঙ্গে দেখা গেল তাঁদের। সেখানে হাজির রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। ইতিমধ্যেই তিনি ঢুকে পড়েছেন ভিক্টোরিয়ার মিউজিয়ামে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য উৎসাহি মানুষের ঢল নেমেছে ভিক্টোরিয়ার বাইরে।
নেতাজী জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ন্যাশনাল লাইব্ররিতে। সেখানে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী। নেতাজীর একটি বই প্রকাশের পাশাপাশি সেমিনারে বক্তব্যও রাখবেন তিনি। এখানেও তাঁর সঙ্গে হাজির রয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সেখানে পৌঁছে নেতাজীর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
নেতাজী ভবনে সুভাষচন্দ্র বসুর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত ছিলেন নেতাজীর পরিবারের একাধিক সদস্য, তাঁদের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে নেতাজী ভবন ঘুরে দেখালেন নেতাজীর পরিবারের সদস্য তথা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সুগত বসু। বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।
নেতাজী ভবনে এসে উপস্থিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩টে ৩২ মিনিটে তাঁর কনভয় এসে পৌঁছয় নেতাজী ভবনে। উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ও সুগত বসু। নেতাজীর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ঘুরে দেখবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দেখান জন্য সাধারণ মানুষের ঢল। কনভয় থেকে নেমেই হাত নেড়ে জনতা ধন্যবাদ জানান।
বিমানবন্দর থেকে রেস কোর্স পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চপার। এখান থেকে তাঁর কনভয় সোজা চলে যাবে নেতাজী ভবনে। বেশ কিছুটা সময় সেখানে কাটাবেন তিনি।