Sovandeb Chattopadhyay: CEC-র বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললেন শাসকমন্ত্রী, বিতর্ক তুঙ্গে
Sovandeb Chattopadhyay On CEC: অন্যদিকে পাল্টা শোভনদেবকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন, "ওনার যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে কেস করুন। এটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যাওয়ার দরকার রয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কিছু বিল বাড়বে। পুরো দলটাই মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।"

কলকাতা: এসআইআর নিয়ে রাজনীতি অব্যাহত তৃণমূলে। নাম না করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর অভিযোগ, নিজের দুই আত্মীয়কে উচ্চপদে বসিয়েছিলেন CEC। কমিশনার শিরদাঁড়া বিক্রি করে দিলে কীভাবে হবে! নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তোপ কৃষিমন্ত্রীর। স্বাভাবিকভাবেই সরব বিজেপি। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রমাণ দেখাতে হবে।
শোভনদেব বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটা কনস্টিটিউশন্যাল বডি। স্বতন্ত্র। কিন্তু তার যিনি মাথায় বসে রয়েছেন, তিনি যেদিন জয়েন করেছিলেন, তাঁর নিটকতম দুই আত্মীয়কে সম্মানজনক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি উৎকোচ নেন, তাঁর শিরদাঁড়াটা বিক্রি করে দেন, তাঁর কাছে দেওয়ার মতো আর কোনও যুক্তি থাকে না।”
স্বাভাবিকভাবেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ আবার নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিহারের ফলাফলে ভয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে কোনওভাবে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধিতা শুরু করেছে। SIR যখন শুরু হয়, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে কীভাবে সাড়ে ৬হাজার ভোট রক্ষা শিবির করার কথা ঘোষণা করলেন। আমাদেরও তো নীচের তলার কর্মীরা ফর্ম ফিল আপে সাহায্য করছে।”
মন্ত্রীকে বিঁধে তাঁর বক্তব্য, “শোভনদেব আদৌ টিকিট পাবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে, নবীন প্রবীণের মধ্যে। তাই তৃণমূল নেতাদের অনেককেই এখন দৃষ্টি আকর্ষণীয় কিছু মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতা ক্রমশই নোংরা হচ্ছে।”
অন্যদিকে পাল্টা শোভনদেবকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “ওনার যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে কেস করুন। এটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যাওয়ার দরকার রয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কিছু বিল বাড়বে। পুরো দলটাই মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অবশ্য বলেছেন, “ওনারা হয়তো জানেন না, সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা ইতিমধ্যেই চলছে। জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়ে মামলা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, চিফ কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে যে তিন জনের কমিটি হবে, তাতে নিরপেক্ষতার জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা থাকবেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থাকবেন। সেটা পাল্টে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ ছিলেন। অর্থাৎ নিজের পক্ষে দুটো ভোট ঠিক করে জ্ঞানেশ কুমারকে ঠিক করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়া ইস্তক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ বা ‘ইমপিচমেন্ট’-এর প্রস্তাব আনা নিয়ে কংগ্রেস নতুন করে সক্রিয়।
