
কলকাতা: ভোটদান শেষ। আর ভোট মিটতেই একাধিক জায়গায় হিংসার ছবি সামনে আসছে। এই অবস্থায় দলের কর্মী-সমর্থকদের বড় বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের শান্ত ও সংযত থাকতে বললেন। মমতা বলেন, “ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলাতে যাবেন না।” ভোট শেষে সামনে এসেছে একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষা। এদিন মমতা সেই সব বুথ ফেরত সমীক্ষা রিপোর্টকে খারিজ করে বলেন, তৃণমূল ২২৬-র বেশি আসন পাবে।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বলেন, “প্রচণ্ড রোদ, অগণিত বাধা, অত্যাচার এবং ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আপনারা যেভাবে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আমাদের কর্মীদের প্রতিও সমানভাবে কৃতজ্ঞ। জীবনপণ লড়াই করে, অসংখ্য অত্যাচার সহ্য করেও তাঁরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং গোটা কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মিলিত চাপ, ক্ষমতা, অর্থবল ও অস্ত্রবল নিয়েও বাংলার মানুষকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বাংলার মানুষ ভোটবাক্সে তার জবাব দিয়েছেন।”
বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে মমতা বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, টেলিভিশনে যা দেখানো হচ্ছে, তার অনেকটাই পরিকল্পিত। বিজেপির পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলছি, বাংলার মানুষ আমাদের পাশে আছেন। তাঁদের রায়ের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা ২০২৬ সালে ২২৬-এর গণ্ডি অতিক্রম করব, এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত।”
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করে মমতা বলেন, “ভোটের দিন বহু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কিছু প্রশাসনিক কর্মীর আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। নারী, শিশু, সাধারণ ভোটার, কেউই রেহাই পাননি। উদয়নারায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে যিনি প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁর পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আমরা তাঁদের পাশে থাকব। ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, ভবানীপুর-সহ একাধিক এলাকায় আমাদের কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাতে তাঁরা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে না পারেন। তবুও তাঁরা পিছিয়ে যাননি। তাঁদের এই সাহস ও আত্মত্যাগ বাংলার মানুষ কোনওদিন ভুলবে না।”
বিজেপির বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “কাউকে কাউকে খামে ৩ হাজার টাকা দিয়েছে। ভান্ডারের নামে টাকা দিয়েছে। যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা ভুল করেছেন। তবু মনে রাখবেন, আমরা আপনাদের ভুল বুঝব না। ভোট যাঁকে ভোট দিয়ে থাকুন, অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়া ঠিক নয়।”
ভোটগণনা নিয়ে কর্মীদের বার্তা মমতার-
৪ মে ভোটগণনা। আর তা নিয়ে কর্মীদের বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, ইভিএম এবং গণনা প্রক্রিয়ার উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা। প্রতিটি প্রার্থী, প্রতিটি এজেন্ট এবং প্রতিটি কর্মীকে আমি অনুরোধ করছি, স্ট্রং রুম থেকে গণনাকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করুন। কোনও অবস্থাতেই অবহেলা করবেন না। গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ টেবিল ছেড়ে উঠবেন না। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কাউকে দায়িত্ব দিয়ে তবেই সাময়িক বিরতি নেবেন। আমি নিজেও প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকব। আমি যদি পাহারা দিতে পারি, আপনারাও পারবেন। এত কষ্ট যখন করেছেন, তখন বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এই শেষ লড়াইটুকুও লড়তে হবে।”
বিভিন্ন জায়গায় হামলার অভিযোগ নিয়ে কী বললেন মমতা?
ভোট শেষে বিভিন্ন জায়গায় হামলা নিয়ে মমতা বলেন, “সবাই শান্ত থাকবেন, সংযত থাকবেন। দিদির প্রতি ভরসা রাখুন। বাংলার মানুষের প্রতি ভরসা রাখুন। বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকারই গঠন করব। নিশ্চিন্তে থাকুন। ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলাতে যাবেন না। আমি জানি, কালও বেহালাতে হামলা করেছে অনেক জায়গায়। অনেক জায়গায় অত্যাচার করেছে। এর জবাব ওদের দিতেই হবে আগামিদিনে। এর জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই।”
শেষে ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বলেন, “বাংলা বাংলার মানুষের। এই মাটি বহিরাগতদের আধিপত্য মেনে নেয় না। বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, এসবকে যারা বোঝে না, তারা বাংলাকে কখনও বুঝতে পারবে না।” তৃণমূলই সরকার গঠন করবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।