
কলকাতা: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর-এর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিস নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোরও চলেছে। একদিকে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপি বলেছিল, আইন সবার জন্য সমান। এরই মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ অমর্ত্য় সেন। বলেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড্ড তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকারকে লঙ্ঘন করতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অমর্ত্য সেনের সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “ওঁর কথায় উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” এদিন শুভেন্দু বলেন, “উনি সবসময় এই সব কথা বলেন। ওঁর কথার বেশি উত্তর দেওয়ার দরকার নেই। ওঁর কোনও কনট্রিবিউশন নেই।” শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একজন শিক্ষিত যুবককে উনি কর্মসস্থান করে দিয়েছেন বা কোনও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমন কোনও উদাহরণ নেই। যাঁদের অবদান নেই বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, তাঁদের এই সব কথার উত্তর দেওয়া হবে না।”
শুভেন্দুর এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “উনি একজন নোবেলজয়ীকে নিয়ে কথা বলছেন, তাঁর নেতা নরেন্দ্র মোদীর বাংলায় অবদান কী? আর নোবেল তো ওঁকে বুঝেই দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কী করেছে, উল্টে যে বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়েছিল, তাঁদেরকে আজ নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে।”
শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন গণতান্ত্রিকভাবে খুব ভাল সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলায় তা চলছে না। সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড্ড তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, কিন্তু তার আগে নিজেদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটাররা যথাযথ সময় পাচ্ছেন না। যা গণতান্ত্রিক অধিকারকে লঙ্ঘন করতে পারে।’