
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) Z প্লাস নিরাপত্তায় যখন কাঁচি, ঠিক তখনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিরাপত্তায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয় সেই নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
জানা যাচ্ছে, শুভেন্দু কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কোনও রকম মমতার নিরাপত্তা নিয়ে সমঝোতা না করা হয়। কারণ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নয়। তিনি দীর্ঘদিন এ রাজ্যের শাসন ভার সামলেছেন। তিনি একজন বর্ষীয়ান নেত্রী। তাই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যেন কোনও ত্রুটি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর সোমবার নবান্নে প্রথমবার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তখনই উঠে আসে ভিআইপিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি উঠে আসে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, একজন সাংসদ কীভাবে Z প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান? সাধারণত সাংসদরা জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান না। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তার আদৌ প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে যাতে তেমনটা না করা হয় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। এখানেই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন তিনি। ২০১৬-র পর মমতার বাড়ির নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পরে তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মেইন রোড থেকে ঢুকতে গেলেও গার্ডরেল পেরতে হত। ছাব্বিশের ভোটে পরাজয়ের ঠিক পরের দিনই তাঁর বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় সব নিরাপত্তা। শুধু তাই নয়, মমতার আরও অভিযোগ, তাঁর বাড়ির ইন্টারনেটের লাইনও কেটে নেওয়া হয়েছে।