
কলকাতা: বাংলাজুড়ে বইছে হিমেল হাওয়া। গত কয়েকদিনে হাওয়া অফিসের রিপোর্টে বারংবার ফিরে এসেছে উত্তুরে হাওয়ার কথা। বাংলার শীতের মাইলেজ বাড়ানোর ‘জ্বালানি’ এই বিশেষ হাওয়া। কিন্তু হিমেল হাওয়ার এমন বাড়বাড়ন্তের কারণ কী? আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, বাংলার শীতে ‘নায়ক’ হয়ে উঠেছে নিম্নচাপ। যা বর্ষার সময় ডেকে আনে কালক্ষণ। শীতের বাংলায় ডেকে এনেছে মন ভাল করা আবহাওয়া।
সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বুকে জন্ম নিয়েছে নতুন নিম্নচাপ। সেই সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে আরও পারদ পড়ছে বাংলার। মঙ্গলবার কলকাতা সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। একই আবহাওয়া উত্তরবঙ্গ এবং গোটা দক্ষিণবঙ্গে। ঘরের বাইরে পা রাখলেই শরীর জুড়ে হিমস্রোত বইয়ে দিচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। যে হাওয়াকে আবার ‘জ্বালানি’ জোগাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে বসে থাকা নিম্নচাপ। এ যেন গোটা দেশের স্থলভাগের হাওয়া নিজের দিকে টেনে সবটাই ছুড়ে দিচ্ছে বাংলার দিকে। কিন্তু নিম্নচাপ তো বৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়। তেমন কোনও সম্ভবনা এখন থাকছে না?
আবহবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপ বাংলা থেকেই অনেকটাই দূরে রয়েছে। তাই আপাতত বৃষ্টির বিন্দুমাত্র সম্ভবনা নেই। বাংলাজুড়ে এখন দাপট বজায় রাখবে উত্তুরে হাওয়ার। অবশ্য উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সমীকরণটা একটু ভিন্ন। সোমবার বিকালেই আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, উত্তরের নীচের দিকে জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলিতে রয়েছে তুষারপাতের সম্ভবনা।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মুখ থুবড়ে পড়েছে কলকাতা শহরের তাপমাত্রা। দমদমে পারদ নেমেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আলিপুরে তাপমাত্রা পড়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু হয়েছে গোটা বাংলাজুড়েই শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের নীচের দিকের জেলা — জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে তাপমাত্রা রয়েছে ৯ ডিগ্রির ঘরে। সঙ্গে রয়েছে কুয়াশার দাপট। বেলা বাড়লেও ঘন কুয়াশার ঘেরাটোপ থেকে বাংলার বেরনোর সম্ভবনা অনেকটাই কম।