
কলকাতা: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। প্রকাশিত এসআইআর-এর নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রায় সম্পূর্ণ তালিকা। পুরোদমে চলছে চাপানউতোর। ফের একবার সংবাদিক বৈঠক করে ‘বিজেপি-কমিশন’ যৌথতার অঙ্ক বুঝিয়ে দিল তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনের নন্দীগ্রাম আগমণ নিয়েও তোলা হল প্রশ্ন। ফের একবার সুর চড়িয়ে কুণাল ঘোষ বললেন, “নির্বাচন কমিশন পুরোদস্তুর বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। বিজেপির সংগঠন নেই তাই দায়িত্ব যেন নিজেরাই কাঁধে তুলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশনের লোকজন।”
এরপরই নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ উঠতেই কুণাল বললেন, “মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক প্রথমেই বেড়াতে গেলেন নন্দীগ্রামে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ঘুরছেন বিজেপির কালীচরণপুরের অঞ্চল কোঅর্ডিনেটর। এর আগে নন্দীগ্রাম ২ এর বিডিও সুরজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল।” দেখান ছবিও। আক্রমণে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। সুর চড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, “উনি নন্দীগ্রামে যেতেই পারেন। কিন্তু সঙ্গে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ট তপন কুমার মহাপাত্র। তাঁকে সিইও-র সঙ্গে ঘুরতে দেখা গেল। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে?”
একইসঙ্গে কমিশন নিযুক্ত একাধিক অবজার্ভাবের বিজেপি যোগের তত্ত্বেও সরব হতে দেখা গেল চন্দ্রিমা-কুণালকে। তুলে ধরলেন খতিয়ান। নাম বাদের প্রসঙ্গ উঠতেই কুণাল বললেন, “এই নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারদের বাদ দিচ্ছেন। অন্য রাজ্যের ভোটারদের ভোটার লিস্টে কপি পেস্ট করে ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। এখানকার সমস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিজেপির সুপারিশ করা লোকজন ঢুকিয়ে ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা করছেন। এর থেকে নির্বাচন কমিশনের লোকজন নিজেরাই লড়তে পারতেন।” তাঁর সাফ কথা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, তৃণমূল কোর্টে ময়দানে লড়াই না করলে দেড় দু’কোটি নাম বাদ দিয়ে যেত। যাদের নাম রাখা গিয়েছে তা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল কেন নাম বাদ যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। সেই ব্য়াখ্যা আমরা পাচ্ছি না।”
যদিও জয়ের বিশ্বাসী আত্মবিশ্বাসী কুণাল-চন্দ্রিমা। কমিশনের বিরুদ্ধে সুর আরও কয়েক ধাপ চড়িয়ে কুণাল বললেন, “বিজেপির মুখোশ পরে এসব করার কী দরকার! কিন্তু কোনও লাভ হবে না। আড়াইশোর বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মা মাটি মানুষের সরকার গড়তে তুলেছেন।”