কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Scam) অভিযোগে শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়তেই এবার প্রতি আক্রমণের পথে হাঁটছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রীর চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। উদয়ন গুহ আবার বলছেন, বাম আমলে নাকি কোচবিহারের এক বিধায়ক-পুত্র প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি পেয়েছেন, অথচ তিনি পুরোপুরি সুস্থ। উঠে আসছে, চিরকুটে চাকরির তত্ত্ব। আর এসবের মধ্যেই বাম জমানায় চাকরিক্ষেত্রে বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরদার করতে অভিনব প্রয়াস তৃণমূলের। চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ ই-মেল আইডি। সেই ই-মেল আইডিতে নিজেদের অভিযোগের কথা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষজন। শাসক দলের আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা দেবাংশু ভট্টাচার্য একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে এই কথা জানিয়েছেন। দেবাংশুর বক্তব্য, যদি কেউ মনে করেন বাম জমানায় তিনি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং তাঁর চাকরি অন্য কেউ পেয়ে গিয়েছিল, সেই অভিযোগের কথা ওই ই-মেল আইডিতে জানাতে পারবেন তাঁরা। এই নিয়ে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলেও একটি লম্বা-চওড়া পোস্ট করেছেন দেবাংশু।
দেবাংশু ভট্টাচার্যের বক্তব্য, যদি কেউ মনে করেন, তাঁরা নিজেদের নাম-পরিচয় গোপন রেখেও ই-মেল করতে পারেন এবং নথি-সহ নিজেদের অভিযোগের কথা জানাতে পারেন। তারপর তৃণমূলের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। পাশাপাশি, কোনও এলাকার সিপিএম-এর কোনও নেতার বাড়ির লোকজন সরকারি চাকরি করছেন, এমন কোনও তালিকা যদি কারও কাছে থাকে, সেটিও ওই ই-মেল মারফত জানানো যাবে বলে জানাচ্ছেন।
তৃণমূলের আইটি ও সোশাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ দেবাংশুর দাবি, এই বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার চল্লিশ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৪০০ ইমেল ঢুকেছে। বলছেন, ‘এখান থেকেই আমরা যা তথ্য পেয়ে যাব, তা সিপিএম-এর সততার মুখোশ উন্মোচন করতে যথেষ্ট।”
ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কলতান দাশগুপ্ত অবশ্য তৃণমূলের এই নতুন প্রয়াসকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘গত ১১ বছর ধরে তৃণমূল বামেদের দুর্নীতি খুঁজে উঠতে পারেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বড় বড় ফাইল নিয়ে এসে বামেদের প্রচুর নেতাদের জেলে ঢোকাবেন বলে দাবি করেছিলেন। অনেক কমিশন হল, কয়েক কোটি টাকার নয়ছয় হল। কিন্তু আজ অবধি একজন নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দেখাতে পারেনি।’