TMC Protest: বিরোধী দলনেতার ঘরে এখনও ‘তালা’, সিকিভাগেরও কম বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় বিক্ষোভ তৃণমূলের
TMC MLA Protest in Assembly: আরও একটা বিষয় উঠে এসেছে। বিরোধী দলনেতার পক্ষে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন ৭০ জন তৃণমূল বিধায়ক। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় রয়েছেন রথীন ঘোষ, স্বাতী খোন্দকার, বিপ্লব মিত্ররা। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে বাকিদের স্বাক্ষর নেই কেন?এর আগে কালীঘাটে নব নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ৯ জন।

কলকাতা : বিধানসভায় অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল বিধায়করা (TMC MLA)। বিরোধী দলনেতার তালাবন্ধ ঘরের সামনে লবির মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা। বিধায়কদের দাবি, অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার (Sovondeb Chatterjee) ঘর খুলে দিতে হবে। উঠছে স্লোগান। উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম মেনে রেজুলেশন জমা দেয়নি বিরোধী দল তৃণমূল। পরে তৃণমূলের (TMC) তরফে দাবি করা হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজুলেশন জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিধানসভা কর্তৃপক্ষ পুরনো সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে আগেই অবস্থান-বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে, আজও বিরোধী দলনেতা নিয়ে জটিলতা না কাটায় অবস্থানে বসেছেন তৃণমূল বিধায়করা।
বিধানসভার লবিতে তৃণমূলের অবস্থান বিক্ষোভ
এদিন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরের সামনে লবির মেঝেতে বসে থাকতে দেখা গেল কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে, মাত্র ১৮ জন তৃণমূল বিধায়ক অবস্থান বিক্ষোভ করছেন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন,” বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত রেজুলেশন জমা দিয়েছি। তাও এখনও ঘর পাইনি ।” সাধারণত, বিধানসভার সচিবালয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দলের চিঠি জমা পড়লেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিধানসভার স্পিকার। সূত্রের খবর, স্পিকার বাইরে রয়েছেন। সেই কারণেই সিদ্ধান্ত নেননি বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। স্পিকার কলকাতায় ফেরার পরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের দাবি। সেক্ষেত্রে, বিরোধী দলের ঘর পাওয়া নিয়ে এখনও জটিলতা অব্যাহত ।
তৃণমূল অন্দরে চওড়া ফাটল?
এদিকে, আরও একটা বিষয় উঠে এসেছে। বিরোধী দলনেতার পক্ষে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন ৭০ জন তৃণমূল বিধায়ক। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় রয়েছেন রথীন ঘোষ, স্বাতী খোন্দকার, বিপ্লব মিত্ররা। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে বাকিদের স্বাক্ষর নেই কেন? এর আগে কালীঘাটে নব নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন ৯ জন। সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বিরোধী দলনেতার রেজুলেশন হোক বা কোনও বৈঠক বা কর্মসূচি । বেশ কিছু সংখ্যক বিধায়ক কিন্তু অনুপস্থিত থাকছেনই। সেক্ষেত্রে দলের অন্দরে কি ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে?
কী বলছে তৃণমূল?
যদিও, তৃণমূলের দাবি ভোট পরবর্তী হিংসা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বিধায়করা উপস্থিত নেই। কেউ কেউ অসুস্থতার জন্য আসতে পারেনি। দল অটুট। দলের ভাঙনের কোনও প্রশ্নই নেই। দল ঐক্যবদ্ধ। সকলে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে।
উল্লেখ্য, ফল ঘোষণার পর বিধানসভার সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে তৃণমূল জানিয়েছিল যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে দায়িত্ব সামলাবেন। কিন্তু, দিন কয়েক আগে বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে এখনও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেয়নি বিধানসভা। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বসার ঘরও তালাবন্ধ। বিধানসভার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস। শোভনদেবের অভিযোগ, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের সই করা রেজুলেশন চাইছেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। কিন্তু, সেরকম কোনও নিয়ম নেই বলে দাবি করেন তিনি।
