Abhishek Banerjee: নিজে জড়াচ্ছেন মামলার জালে, তৃণমূল কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে হেল্পলাইন নম্বর দিলেন অভিষেক
Abhishek Banerjee 'Ek Dake Abhishek': তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন 'দিদিকে বলো' বলে হেল্পলাইন নম্বর ছিল। তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্যই ছিল 'দিদিকে বলো'। তারপরও 'এক ডাকে অভিষেক' শুরু করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মূলত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য শুরু হয়েছিল 'এক ডাকে অভিষেক'। তারপর তা সারা রাজ্যের জন্য শুরু হয়।

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সিআইডি তাঁকে একাধিকবার তলব করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিভিন্ন আবেদন জানিয়ে একাধিকবার তিনি আদালতে পৌঁছে গিয়েছেন। নিজে যখন মামলায় কার্যত জর্জরিত, তখন তৃণমূল কর্মীদের জন্য ফের ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি চালু করলেন ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতেই এই ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি বলে নিজেই জানালেন।
কী বলছেন অভিষেক?
এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি শুরুর কথা জানান অভিষেক। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্যাচারে ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িত কর্মীদের সুবিধার্থে যেকোনও আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।’ হেল্পলাইন নম্বরটি হল-৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন ‘দিদিকে বলো’ বলে হেল্পলাইন নম্বর ছিল। তৎকালীন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাধারণ মানুষ যাতে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্যই ছিল ‘দিদিকে বলো’। তারপরও ‘এক ডাকে অভিষেক’ শুরু করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মূলত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য শুরু হয়েছিল ‘এক ডাকে অভিষেক’। তারপর তা সারা রাজ্যের জন্য শুরু হয়।
রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেকের এই কর্মসূচি নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে করতেই পারেন। এটা কি দলের কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন নাকি তাঁর ব্যক্তিগত, জানি না। দেখতে হবে। ওয়ার্কিং কমিটিতে কোনও আলোচনা হয়নি এই নিয়ে। হেল্পলাইন কল্যাণবাবুও করেছিলেন। সব নেতারাই যার যার মতো করে আছে।”
অভিষেককে কটাক্ষ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের-
অভিষেককে এই নিয়ে কটাক্ষ করে বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূলের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক তথা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “যারা ফেসবুকে থাকতে চায় থাকুক। বিদেশে যেতে চায় যাক। আমরা কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছি। জেলাভিত্তিক কালেকটিভ টিম আমরা কর্মীদের আইনি সহায়তা দেব। গ্রাম বাংলায় যাব।”
কটাক্ষ বিজেপির-
বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটা আমরা ইতিবাচক দিক থেকে দেখতে চাই। এতদিন তদন্তকারী সংস্থা একাধিকবার ডাকলেও তিনি যেতেন না। এবার এক ডাকেই যাবেন। সেটাই বলতে চেয়েছেন। এবার আর বারবার ডাকতে হবে না। একবার ডাকলেই যাবেন। এটাই বলতে চেয়েছেন। বারবার ডেকে সাড়া না পেলে কী তার কুফল হয়, সেটা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছেন।” অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভিউ কাটার বসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আর জনগণের জন্য এক ডাকে অভিষেক? সেটা কী করে হবে? ভিউ কাটার লাগিয়ে ফেলেছেন। অমন ভিউ কাটার পেরিয়ে জনগণই ডাকবে কী করে, আর উনি যাবেনই বা কী করে।”
