
কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডের সময় থেকে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। শেষমেশ গত বছরের শুরুতেই তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। আর ভোটের বাংলায় সেই শান্তনু সেনকে কাছে টেনে নিল রাজ্যের শাসকদল। রবিবার শান্তনু সেনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শান্তনু সেনকে দল থেকে সাসপেন্ডের কথা ঘোষণা করেছিলেন জয়প্রকাশই।
২০২৪ সালের অগস্টে আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় সরব হয়েছিলেন চিকিৎসক তথা তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব বাধে শান্তনু সেনের। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দল থেকে সাসপেন্ড করা হয় শান্তনুকে। ওইদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে শান্তনুকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার।
তৃণমূল সাসপেন্ড করার পর শান্তনু সেনের বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেইসময় শান্তনু বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় দু’দুবার কাউন্সিলর করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ করেছেন, দলের মুখপাত্র করেছেন। আমার স্ত্রী এখন কাউন্সিলর। আমি এতটাও বেইমান নই যে সেই দলের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করব। আমি তৃণমূলের অনুগত সৈনিক ছিলাম, আছি, থাকব।”
এবার ভোটের বাংলায় শান্তনু সেনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করল তৃণমূল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবারও ঘোষণা করলেন জয়প্রকাশই। এদিন এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শান্তনু সেনের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে আজ থেকে। শান্তনু সেন এখন থেকে দলের কাজ করতে পারবেন।” কেন সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে অবশ্য জয়প্রকাশ কোনও মন্তব্য করেননি।
প্রসঙ্গত, দল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরও তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে বারবার উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গিয়েছে শান্তনুকে। কিছুদিন আগেই সেবাশ্রয় শিবির করেছিলেন তিনি।