
কলকাতা: হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে চড়ছে রাজনীতির পারদ। দ্বিতীয় দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ভবানীপুরে জোরকদমে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি। এরই মধ্যে শনিবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে। মমতার সভা চলাকালীন তৃণমূলের সভামঞ্চের দিকে মাইক বাজানো ঘিরে চাপানউতোর বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সভা মাঝপথে বন্ধ করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “অসভ্যতামি করতে পারব না।” আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন। তার পরই তৃণমূলের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কী হল ভবানীপুরে?
এদিন সন্ধেয় ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে সভা করছিলেন মমতা। অভিযোগ, তৃণমূলের সভার দিকে বিজেপি জোরে মাইক বাজায়। তখন বক্তৃতা বন্ধ করে দেন মমতা। তৃণমূলের তরফে পুলিশকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়, “ভবানীপুর থানার আধিকারিকরা বিষয়টা একটু দেখুন। মাইক্রোফোনটা বারংবার বলা সত্ত্বেও আমাদের দিকে করে রেখেছে। আমরা কিন্তু, এই অসভ্যতামি করি না। ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড এই অসভ্যতামি মানবে না। বাংলায় এই অসভ্যতামি চলবে না।”
সেইসময় বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন মমতা। তারপর বলেন, “কেন করবে এটা? নির্বাচনের কিছু নিয়ম রয়েছে। ওরা-ও যেদিন মিটিং করবে, তোমরাও মাইক লাগিয়ে দেবে। খুলতে এলে এফআইআর করবে। এটা পক্ষপাতিত্ব। এভাবে মিটিং করা সম্ভব? আমি সবরকম অনুমতি নিয়েছি। তারা জোরপূর্বক যা করছে, সেটা ভুল। আমি একমাস বাংলায় ২০০ আসনে প্রচার করেছি। এখানে ছিলাম না। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনে প্রচার করেছে। তারা যদি এমন করে, আমাকে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। আমি সেটা করব। পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে। সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি। মা-ভাই-বোনেরা, আমায় ক্ষমা করে দেবেন। আমি মিটিংটা করতে পারব না। কালকে ব়্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। আমায় ক্ষমা করবেন। আমার বোতাম নম্বর ২। এর প্রতিবাদে ভোটটা আমায় দিতে হবে। আমায় মিটিং পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না।”
মমতার সভা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিজেপির বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কাউন্সিলর অসীম বসু। এরপর নির্বাচন কমিশনেরও তাঁরা দ্বারস্থ হবেন বলে জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ভবানীপুরের মানুষ এর জবাব দেবে।”