
কলকাতা: কেটে গিয়েছে চারদিন। এখনও জানা গেল না, আনন্দপুরে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে কতজনের মৃত্যু হল। বৃহস্পতিবার আরও চারজনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের দেহাংশ উদ্ধার হল। শুক্রবার সকাল থেকে ফের উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ফলে নতুন করে আরও দেহাংশ উদ্ধার হবে কি না, সেই জল্পনা বাড়ছে।
এদিন সকালে আনন্দপুরের গোডাউনের সামনে পুলিশি প্রহরা দেখা যায়। গোডাউনটি পুলিশ সিল করে দিয়েছে। এলাকায় জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। ২১টি দেহাংশের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার যে চারটি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ। ফলে পরিজনদের উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে গুদামটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় দ্রুত উদ্ধারকাজও করা যাচ্ছে না।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে এদিন আনন্দপুরে মিছিল করবেন শুভেন্দু অধিকারীরা। হাইকোর্ট জানিয়েছে, সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টে পর্যন্ত ওই প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে। মিছিলে সর্বোচ্চ ২০০০ জনের জমায়েত করা যাবে। গতকাল শুভেন্দু অভিযোগ করেছিলেন, “এখানে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে করে পাচার হয়ে যাচ্ছে।” মৃতের সংখ্যা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “আমাদের ধারণা, ৩৫-৪০ জনের মতো মৃতের সংখ্যা হতে পারে।”
আনন্দপুরে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে এদিন প্রশাসনকে নিশানা করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আসল লোকেদের আড়াল করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। এদিন তিনি বলেন, “এত বড় গোডাউন যিনি বেআইনিভাবে বানিয়েছেন, তিনি তো এমনি সুযোগ পাননি। অনেক লোককে খাইয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশ রয়েছে। তৃণমূলের নেতা-বিধায়করা রয়েছেন। তাই, সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে তো মারা যাবে না। আলতু ফালতু লোকদের গ্রেফতার করে বিষয়টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”