
কলকাতা: কমিশনের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা (Troublemaker List) ফের গড়াল হাইকোর্ট পর্যন্ত। আদালতের নির্দেশের পরও ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলল কমিশন। প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগেই কমিশনের তৈরি করা ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরও কমিশন ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। কীভাবে সেটা করতে পারে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য।
‘ট্রাবল মেকার’ অর্থাৎ গোলমাল তৈরি করতে পারে, এমন সন্দেহে কয়েকজনকে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য। এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শাসকদল আশঙ্কা করে, তাঁদের দলের ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হতে পারে। গোটা বিষয়টি সে সময়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়।
সেই মামলায় আগে কমিশনের বক্তব্য ছিল, “কমিশনের আইনজীবী সওয়াল করেন, ‘‘আমাদের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন করানো। আইনে যা বলা রয়েছে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করছি। এই রাজ্যে (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) প্রথম বার ঘটছে না।”
এই মামলায় তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের হয়ে এজি কিশোর দত্ত সওয়াল করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ‘‘যদি প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা অ্যারেস্ট করতে হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে। তা ছাড়া হবে না।”
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। “শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিক ভাবে ভুল।” সেই তালিকা খারিজ করে দেয় আদালত। কিন্তু তারপরও কেন ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল তৃণমূল।