
কলকাতা: বাংলায় নতুন সরকার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার গঠন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। ইতিমধ্যেই শপথ গ্রহণ করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর শপথ গ্রহণের আগেই তিনি বলেছেন, ‘আমি নয়, আমরা’র মন্ত্রে চলবেন তিনি। এই নীতিতেই পশ্চিমবঙ্গে আবার উন্নয়ন-বিকাশ হবে। আর তাঁর এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র হবে স্বামীজির বলা মন্ত্র- “চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি”। বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে বহু পুরনো এই শব্দবন্ধ শোনা গেল। এর অর্থ কী জানেন?
চরৈবেতি হল একটি সংস্কৃত শব্দবন্ধ, যার অর্থ হল “চলতে থাকো” বা “এগিয়ে যাও”। এই শব্দটি এসেছে ঐতরেয় ব্রাহ্মণ বেদ থেকে। ঋগ্বেদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-এ বর্ণিত মন্ত্র হল চরৈবেতি। ঋগ্বেদের ঐতরেয় ব্রাহ্মণে এই মন্ত্রটি পাওয়া যায়, যেখানে ইন্দ্র রাজা হরিশ্চন্দ্রকে জীবনের চলার পথে থামতে নিষেধ করে এই মন্ত্র শুনিয়েছিলেন।এর দর্শন হল, জীবনের মানেই পরিবর্তন এবং গতি। “চর” ধাতুর অর্থ চলা, তাই চরৈবেতি মানে স্থবিরতা ভেঙে নিরন্তর যাত্রাপথ।
এই শব্দের মূল ভাব বা অর্থ হল আলস্য ত্যাগ করে নিরলস পরিশ্রম করা এবং প্রতিকূলতায় ভেঙে না পড়ে জীবনের পথে অবিরাম যাত্রা চালিয়ে যাওয়া। সহজ কথায় বলতে গেলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে না গিয়ে, জীবনের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাই হল চরৈবেতি।
এই শব্দটির আধ্যাত্মিক অর্থও রয়েছে। তা হল, “আত্মার যাত্রাপথে সত্যের সন্ধানে নিরন্তর অনুসন্ধান”। এই সংস্কৃত শব্দটি কিন্তু শুধুমাত্র হাঁটার বা এগিয়ে যাওয়ার কথা বলে না, এর অর্থের গভীরতা অনেক। ‘চরৈবেতি’ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে বা বিপদে পড়লে, “থামলে চলবে না” – এই মানসিকতা তৈরি করার একটি মন্ত্র। এটি সাহস, ধৈর্য্য ও শান্তির পথে প্রতিকূলতা জয় করার বাণী।