Vijay Diwas: ‘চোখের সামনে তিন টুকরো হয়ে যায় জওয়ানের দেহ’, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় জওয়ানদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে কেঁদে ফেললেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক
Vijay Diwas: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুক্তে বড় অবদান ছিল ভারতীয় সেনার। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সেনা। দিনটিকে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

কলকাতা: কেটে গিয়েছে ৫৩ বছর। কিন্তু, তাঁর স্মৃতিতে এখনও তাজা যুদ্ধের ছবি। তাঁর ব্যাটেলিয়নের ৩ জওয়ান শহিদ হন। সেকথা স্মরণ করে মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এস ভাটিয়ার। সোমবার বিজয় দিবস উদযাপনে কলকাতায় এসে সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে চোখ ছলছল করে উঠল অবসরপ্রাপ্ত কর্নেলের।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুক্তে বড় অবদান ছিল ভারতীয় সেনার। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সেনা। দিনটিকে বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কলকাতায় বিজয় দিবস উদযাপনে এসেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এস ভাটিয়া। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ৮২ লাইট রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ব্যাটেলিয়নের তিন জওয়ান শহিদ হন। শহিদ জওয়ানদের নাম এস মুরগেশন, পি কালাপ্পা গুরাপ্পা এবং পি সি কারিয়া। সেদিনের ঘটনার কথা স্মরণ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এস ভাটিয়া বলেন, “আগরতলায় পাকিস্তানের শেলে মুরগেশনের শরীর তিন টুকরো হয়ে যায়। আমার থেকে ৪ গজ দূরেও পাকিস্তানের একটি শেল এসে ফাটে। কিন্তু, ঈশ্বরের কৃপায় আমার কিছু হয়নি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তাঁদের লড়াই ব্যর্থ হয়নি। তাঁদের আত্মত্যাগেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।”
বর্তমানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বাংলাদেশে। ভারতকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বাংলাদেশের একাধিক নেতা। এই নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে দুঃখ হয়। মনে হয়, যে দেশের জন্য আমাদের জওয়ানরা প্রাণ দিলেন, সেই দেশ এখন ভারত সম্পর্কে এমন ভাবছে।”
বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে জয়ের পর শেখ মুজিবুর রহমান আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। আমাকে ছাড়তে চাইছিলেন না। বলছিলেন, ভারতীয় সেনা ধন্যবাদ।”

