
কলকাতা: এক ধাক্কায় ৯ ডিগ্রিতে পৌঁছে গেল শহরের তাপমাত্রা। মিলে গেল হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। হাড় কাঁপানো শীত অনুভব করল কলকাতা তথা বাংলা। ভেঙে গেল বিগত কয়েক বছরের সকল রেকর্ড। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত, শীতের অনবদ্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল বাঙালি।
মঙ্গলবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শহরের তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রির ঘরে। এদিন দমদমেই এতটা নেমে গিয়েছিল পারদ। একই অবস্থা ছিল আলিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও। এক ধাক্কায় পারদ নেমেছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সঙ্গে শরীরজুড়ে কাঁপুনি দিতে এখনও বয়ে চলেছে কনকন উত্তুরে হাওয়া।
হাওয়া অফিস বলছে, সাম্প্রতিক অতীতে এই রকম শীত দেখেনি কলকাতা। প্রতিবছর শহরবাসীর মনে শীত নিয়ে ক্ষোভের ছায়া দেখা যায়। কারণ নভেম্বরে শীতের সিকি ভাগ অনুভূতি মেলে না। ডিসেম্বরে শীতটা টের পাওয়া গেলেও, তা হয় ক্ষণিকের। জানুয়ারি ঢুকতেই তেজ বাড়ে রোদের। অবশ্য, এই বছর তেমন কিছু হয়নি। উল্টে ভেঙে গিয়েছে গত ১৩ বছরের রেকর্ড। এক কথায়, কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। একই অবস্থা উত্তরবঙ্গ এবং সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেও।
সোমবার বিকালেই বাংলার আট জেলায় ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করেছে হাওয়া অফিস। আলিপুর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্য়ে এই জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৫-৬ ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। আরও শক্তি বাড়াতে পারে উত্তুরে হাওয়া, রাতের দিকে বাড়বে কাঁপুনি। সব মিলিয়ে শীত নামবে ‘ফুল পারফর্মেন্সে’। কিন্তু কোন কোন জেলাতে জারি হয়েছে এই অ্য়ালার্ট? জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াতেই এখন দাপট বাড়বে শীতের।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে চার-পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাসও। আবহবিদদের মতে, কয়েকদিনের মধ্য়েই বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।