Pather Sathi: এবার নজরে ‘পথের সাথী’ বিশ্রামালয়, সামনে আসছে বিস্ফোরক অভিযোগ
West Bengal Pather Sathi Project: আবাসন এবং পূর্ত দফতরে যৌথ সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এই পথের সাথী বিশ্রামালয় তৈরি করা হয়েছিল। রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কের ধারে প্রতি ৫০ কিলোমিটার অন্তর পথচারীদের জন্য শৌচাগার, বিশ্রামাগার, ফ্যামিলি রুম ও রেস্তোরাঁ সম্বলিত এই মোটেলগুলো তৈরি করা হয়েছে।

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া “পথের সাথী” প্রকল্প আতসকাচের তলায়। আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোটি কোটি টাকা দিয়ে তৈরি এই পথের সাথী তৈরির বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন। রাজ্যজুড়ে জাতীয় সড়ক এবং রাজ্য সড়কের পাশে তৈরি হওয়া ৬৫টি পথের সাথী বিশ্রামালয় নিয়ে দুর্নীতির আভাস পাওয়া গেল পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বক্তব্যে।
শুক্রবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পর্যটনমেলায় হাজির হয়ে তিনি বলেন, পথের সাথী বিশ্রামালয়গুলি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলি কেন তৈরি করা হয়েছিল, কী কারণে তৈরি করা হয়েছিল, আদৌ এগুলির কোনও প্রয়োজন ছিল কি না, তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। অথচ বিপুল পরিমাণ অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়ে গিয়েছে।
এরপরই রাজ্যের পর্যটন এবং পরিষদীয় মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল জমানায় দুর্নীতি ছাড়া আর কি কোনও কাজ হয়েছে? তিনি জানান, এই পথের সাথী বিশ্রামালয়গুলিকে নিয়ে আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী একটি বৈঠক করতে চলেছেন। সেখানে গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আবাসন এবং পূর্ত দফতরে যৌথ সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এই পথসাথী বা পথের সাথী বিশ্রামালয় তৈরি করা হয়েছিল। রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়কের ধারে প্রতি ৫০ কিলোমিটার অন্তর পথচারীদের জন্য শৌচাগার, বিশ্রামাগার, ফ্যামিলি রুম ও রেস্তোরাঁ সম্বলিত এই মোটেলগুলো তৈরি করা হয়েছে। পথের সাথী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কিংবা পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
উদ্দেশ্যহীনভাবে তৈরি করায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে পর্যটন দফতর সূত্রে খবর। এই কাজ করতে গিয়ে বিনা টেন্ডারে কাছের ঠিকাদারদের বরাত দেওয়া, কাটমানি খাওয়া, বেআইনিভাবে নির্মাণ তৈরি করা-সহ একাধিক অভিযোগ ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে। কোটি কোটি টাকার এই দুর্নীতির পাহাড়ে তৈরি হওয়া বিশ্রামালয় নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেকারণে আবাসন, পূর্ত এবং পর্যটন দফতরের কর্মীদের একাংশের ভূমিকাও স্ক্যানারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
