AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

West Bengal Tourism: ‘পর্যটনই হবে উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার’, সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বাংলার পর্যটন ক্ষেত্রে

West Bengal Tourism Investment: পর্যটনই উন্নয়নের হাতিয়ার হবে বলে আশাবাদী পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'আগামী দিনে ভারতবর্ষের জিডিপি বৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্প এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।'

West Bengal Tourism: 'পর্যটনই হবে উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার', সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বাংলার পর্যটন ক্ষেত্রে
কী বললেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ?Image Credit: Social Media
| Updated on: Sep 28, 2026 | 9:31 PM
Share

কলকাতা: লক্ষ্য রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন। সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতার তাজ বেঙ্গলে বিশেষ ইনভেস্টরস মিটের আয়োজন করল রাজ্য সরকারের পর্যটন দফতর। রবিবার ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। শিল্পপতি হর্ষবর্ধন নেওটিয়া-সহ পর্যটন ক্ষেত্রের ৩৬ জন বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ৩৭টি কর্পোরেট সংস্থা পর্যটন ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করল। যার ফলে ২১ হাজার ৮১৪ জনের কর্মসংস্থান হবে। 

সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রের সম্ভাবনা এবং ব্যবসা করার সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, আগের ব্যবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নতুন সরকার পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন উদ্যম ও গুরুত্ব দিয়েছে। পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পর্যটনস্থলের বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন।

আর পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ পর্যটন ক্ষেত্রে রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শিল্পপতি ও বিশিষ্ট জনদের বার্তা দেন। কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং নাগরিকদের মর্যাদা ও আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়াই সর্বোচ্চ সেবা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কয়েক দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা-

গত ৫০ বছরের দীর্ঘ স্থবিরতার সমালোচনা করে রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়, বিনিয়োগের অভাব, রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, লোভ, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের কারণে কর্মসংস্থান প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছিল। সেই অন্ধকার অধ্যায় এখন অতীত বলেও দাবি করা হয়।

ওই সম্মেলনের পর পর্যটন দফতরের তরফে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের যে উদ্যোগ চলছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব, সহযোগিতা এবং সংস্কারমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ নতুন এক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের যুগে প্রবেশ করছে।

‘ইনটেন্ট থেকে ইনভেস্টমেন্ট’, ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ-

‘ইচ্ছা থেকে বিনিয়োগ’-এর ভাবনাকে সামনে রেখে পর্যটন ক্ষেত্রে মোট ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২২ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা-

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন নতুন জায়গা ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রকে তুলে ধরার জন্য পর্যটন দফতর জোরকদমে কাজ করছে। লক্ষ্য, পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা। আধুনিক, টেকনোলজি-নির্ভর এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্যতম বড় বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানানো হয়, “পশ্চিমবঙ্গে আসুন…! পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করুন..! যেখানে ভারতকে একটু অন্যরকম মনে হয়।” পর্যটনই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।

গতকালের ওই সম্মেলন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি লেখেন, ‘এই ইনভেস্টরস মিটে মোট ১২,৫৩৪ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে! এর ফলে রাজ্যে সরাসরি ২১,৮১৪টি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে চলেছে এবং ৩৭টি বড় কর্পোরেট গ্রুপ এই উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’

পর্যটনই উন্নয়নের হাতিয়ার হবে বলে আশাবাদী পর্যটনমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘আগামী দিনে বিদেশি গালফ কান্ট্রিগুলোর অর্থনীতি যেমন একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে শক্তিশালী হয়েছে, ঠিক তেমনি ভারতবর্ষের জিডিপি বৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্প এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। পর্যটনই হবে আমাদের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’ শেষে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘এটি তো সবে শুরু! আসুন, সবাই মিলে এক উন্নত, শিল্পমুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলা গড়ে তুলি।’

Follow Us