Abhishek Banerjee: তৃণমূলের ভরাডুবির পর কী করবেন অভিষেক?
Abhishek Banerjee future after TMC defeat: অভিষেককে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, "দিদির কোলে বসে ক্ষমতা পেয়েছেন। ক্ষমতার জন্য বাঘ হয়। ছাগলকে বাঘের চামড়া পরালে বাঘ মনে হয়। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এখন বোঝা যাবে, বাঘ না ছাগল।"

কলকাতা: তিনি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ২ দিন আগেও তৃণমূল নেতৃত্ব বলত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর বাংলার মসনদে বসবেন তিনি। কিন্তু, গতকাল বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল সরকারের পতনের পর অভিষেকের ভূমিকা কী হবে? তৃণমূলের হারের জন্য অভিষেক কতটা দায়ী, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনে অভিষেকের স্ট্র্যাটেজিই তৃণমূলের ক্ষেত্রে ব্যুমেরাং হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। নির্বাচনের প্রচারে বারবার বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিষেক। কখনও নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। ৪ মে অমিত শাহকে বাংলায় থাকার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড।
উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ধাক্কা খাওয়ার পর আইপ্যাক আসে বাংলায়। এই ভোটকুশলী সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে তৃণমূল। আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূলের এই গাঁটছড়া বাঁধার পিছনে যে অভিষেক ছিলেন, সেকথা এখন সবাই জানেন। অভিযোগ উঠে, আইপ্যাক ধীরে ধীরে তৃণমূলের সাংগঠনিক দিক নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তৃণমূলে কর্পোরেট কালচার শুরু হয়। এমনকি, মদন মিত্রের মতো বর্ষীয়ান নেতা একবার অভিযোগ করেছিলেন, টাকা নিয়ে নির্বাচনে টিকিট দিচ্ছে আইপ্যাক।
নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকের হুঙ্কার-
এবারের নির্বাচনের প্রচারেও বিরোধীদের বারবার হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে অভিষেককে। একটি সভা থেকে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, আমি অত উদার নই।” ৪ তারিখে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। আবার দলের একাধিক পদাধিকারীকেও অভিষেক কড়া বার্তা দিয়ে জানান, জেতাতে না পারলে পদ থাকবে না। সেই সব বার্তাই তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
কী বলছে বিরোধীরা?
অভিষেককে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “দিদির কোলে বসে ক্ষমতা পেয়েছেন। ক্ষমতার জন্য বাঘ হয়। ছাগলকে বাঘের চামড়া পরালে বাঘ মনে হয়। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এখন বোঝা যাবে, বাঘ না ছাগল।” অন্যদিকে, বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “উনি প্যারাসুটে নেমেছেন। তৃণমূলের এই পরাজয়ের অন্যতম কান্ডারী এই অভিষেক। একটি রাজনৈতিক দলের যে পিলারগুলো থাকে, সেগুলো নষ্ট করেছেন অভিষেক। তাই, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন পর দলটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”
তবে এদিন অভিষেকের ডিজে বাজানো মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুনুন রাজনীতিতে অমিত শাহ বলেছিলেন সবাইকে দড়িতে করে ঝুলিয়ে পেটানো হবে। আগে তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দেবেন।”
তৃণমূলের ভরাডুবির পর মমতা অভিষেককে আগলে রাখার চেষ্টা করলেও একাধিক প্রশ্ন উঠছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন, তখন তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতায়। ফলে ক্ষমতায় না থাকা অবস্থায় দলের কার্যকলাপ নিয়ে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এই পরিস্থিতিতে দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসেবে তিনি কী ভূমিকা পালন করেন, সেটাই দেখার।
