
কলকাতা: নিউজ চ্যানেলের বিতর্কসভায় দেখা যাচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কার্যত নেই। হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করলেন, তাঁকে দেখা গেল না। কোথায় তিনি? তৃণমূলের একসময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য কি ‘গায়েব’ হয়ে গেলেন? কিছুদিন ধরেই তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মিম ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে টিভি৯ বাংলাকে ফোনে নিজের বর্তমান অবস্থানের কথা জানালেন দেবাংশু। কেন রাজনীতির ময়দানে এখন তাঁকে দেখা যাচ্ছে না, তারও ব্যাখ্যা দিলেন।
একুশের নির্বাচনের প্রচারে তাঁর ‘খেলা হবে’ স্লোগান ও গান ঝড় তুলেছিল। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে দেবাংশুর। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৃণমূলের সমর্থনে প্রচারে ঝড় তোলেন। আর একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পরই তৎকালীন শাসকদলে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব পান। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। হেরে যান। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া থেকে তাঁকে প্রার্থী করে দল। এবারও জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। তাঁর হারের মতোই রাজ্যে ক্ষমতা হারায় তৃণমূল। আর তারপর থেকেই ক্রমশ অন্তরালে চলে যান দেবাংশু।
এখন কী করছেন দেবাংশু?
রাজনীতির ময়দান দূরে থাক, সোশ্যাল মিডিয়াতেও কেন নিষ্ক্রিয় তিনি? টিভি৯ বাংলা ফোনে যোগাযোগ করেছিল দেবাংশুর সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয়, কেমন আছেন তিনি? ফোনের ওপার থেকে হাল্কা হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল। বললেন, “ভালো আছি।” সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন তিনি নিষ্ক্রিয়? কী করছেন এখন? জবাবে দেবাংশু বলেন, “সবকিছু থেকে দূরে রয়েছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। বাবা-মার বয়স হয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছি।”
এরপরই তিনি বলেন, “সামনেই দিদির বিয়ে। সেই নিয়ে একটু ব্যস্ত রয়েছি।” সোশ্যাল মিডিয়ায় যিনি প্রতিদিন পোস্ট করতেন, সেই দেবাংশ জানালেন, সোশ্যাল মিডিয়া এখন একদম কম দেখছেন। কেন রাজনীতির ময়দানে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে? এবার কিছুটা দৃঢ় কণ্ঠস্বরে জানালেন, রাজনীতি থেকে এখন শতযোজন দূরে থাকতে চাইছেন। কেন? বললেন, “সাত-আট বছর অনেক কিছু করতে পারিনি। পরিবারকে সময় দেওয়া। নিজের জন্য সময় বের করা। এখন সেগুলোই করছি।” তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেবাংশু বলেন, বাবা-মার সঙ্গে থাকছেন। সন্তান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রচার নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এগুলো সম্পর্কে বিশেষ খোঁজখবর রাখছেন না তিনি। এগুলো মাথাতেও ঢোকাচ্ছেন না। আর বিশেষ কিছু বলতে চাইলেন না দেবাংশু।
তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বলছে, রাজ্যে পালাবদলের পর ১৩ জুন দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পোস্ট করেছিলেন তিনি। একসময় তিনি বলেছিলেন, যাঁরা ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা ফিরে এলে ‘দিদির’ দরজায় শুয়ে আটকাবেন। কিন্তু, একুশের নির্বাচনের পর অনেকেই ফিরে আসেন। এই নিয়ে তাঁকে নানা টিপ্পনী শুনতে হয়েছে বলে ওই পোস্টে জানান।
তার কয়েকদিন পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের পৃথক শিবির নিয়ে কটাক্ষ করে ছোট একটা পোস্ট করেছিলেন। তারপর থেকে আর কোনও রাজনৈতিক পোস্ট নেই। হঠাৎ কেন রাজনীতির ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন, সেই ‘রহস্য’ জিইয়েই রাখলেন দেবাংশু। আবার কোনওদিন ‘খেলা হবে’ বলে উঠবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।