
কলকাতা: বিজেপি যে সরকার গঠন করছে, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ আর নেই। তবে, এখন বাংলায় একটাই প্রশ্ন সামনে আসছে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী (Next CM of Bengal) বাছতে আজই কলকাতায় আসছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। থাকতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর নেতৃত্বেই মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
আজ, মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে একটি বৈঠক ছিল। সেখানে যোগ দেন বাংলায় দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অর্থাৎ সুনীল বনশল, ভূপেন্দ্র যাদবরা। সেখানেই প্রাথমিকভাবে এই বিষয়ে কথা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
চর্চায় প্রথমেই উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। প্রথমত, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম জোড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম তো বটেই, মমতার ঘরের কেন্দ্র ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে কার্যত নজির গড়েছেন তিনি। এছাড়া মমতাকে পরপর দু’বার (২০২১ ও ২০২৬)-এ হারিয়েও নজির তৈরি হারিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও শুভেন্দুর অভিজ্ঞতা অন্যদের থেকে বেশি। কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকলেও, রাজ্যে বিধায়ক বা বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা শুভেন্দুরই বেশি।
সম্ভাবনার তালিকায় রয়েছে দিলীপ ঘোষের নামও। রাজ্যে বিজেপির উত্থানের ক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষের নামই সবার আগে উঠে আসে। বিজেপির রাজ্য সভাপতিও ছিলেন তিনি। মাঝে বেশ কিছুদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও, নিয়মিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার অভ্যাস ছাড়েননি তিনি। লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরও দিলীপের প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বলেন, “পার্টি আমাকে টিকিট দিয়েছিল, আমি দলকে একজন এমএলএ দিয়েছি।”
বঙ্গ বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম নিয়েও জল্পনা রয়েছে। গত কয়েকদিনেই রাজ্য সভাপতি হিসেবে বারবার সবাইকে নিয়ে চলার বার্তা শোনা গিয়েছে শমীকের মুখে। এছাড়া, রাজ্যের বিধায়ক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁরও। ছিলেন রাজ্য়সভার সাংসদ।
বিজেপির অন্যতম বুদ্ধিজীবী মুখ স্বপন দাশগুপ্ত। লন্ডন থেকে এমএ, পিএইডি করা স্বপন পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ডের অধীন কলেজেও। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন ও রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এবার রাসবিহারী কেন্দ্রে দেবাশিস কুমারকে পিছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন তিনি। এমন একজন ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য ভাবতে পারে গেরুয়া শিবির।
তবে অন্যান্য রাজ্যে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নয়, এমন কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের মতো মুখের কথা ভাবা হয়েছিল, ত্রিপুরায় বেছে নেওয়া হয়েছিল বিপ্লব দেবকে। এ রাজ্যেও তেমন কিছু ঘটবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অভিজ্ঞতা ছাড়াও এ ক্ষেত্রে সঙ্ঘের মতামতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।