AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Taslima Nasreen: নিজেকে ‘বামপন্থী’ বলে দাবি করেন! বুদ্ধবাবুর আমলে কেন কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল সেই তসলিমাকে?

Taslima Nasreen Kolkata: মৌলবাদীদের চাপে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। পরে ২০০৪ সালে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন কলকাতায়। বাংলা ভাষার শহর কলকাতাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন। সাহিত্যিক মহলে বেড়ে ওঠে পরিচিতি। বাম নেতাদের সঙ্গেও তৈরি হয় সুসম্পর্ক। তারপর কী এমন ঘটল!

Taslima Nasreen: নিজেকে 'বামপন্থী' বলে দাবি করেন! বুদ্ধবাবুর আমলে কেন কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল সেই তসলিমাকে?
Image Credit: Facebook
| Updated on: Jul 15, 2026 | 12:22 AM
Share

কলকাতা: নির্বাসনের পর নির্বাসন জুটেছে তসলিমার (Taslima Nasreen)। প্রথমে বাংলাদেশ, তারপর কলকাতা, তারপর ভারত ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ‘লজ্জা’র লেখিকাকে নিয়ে যেমন বিতর্কের পর বিতর্ক হয়েছে, তেমনই তসলিমা বাংলা ছাড়ায় বাম সরকারকে কম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি। যারা নিজেদের উদারপন্থী বলে থাকে, সেই বামেদের আমলে কেন তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে হল?  তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্বজনেরা। তসলিমা নাসরিন নিজে বারবার বাম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একাধিক পোস্টে নিজেকে ‘বামপন্থী’ বলে দাবি করেন তিনি। কেন বাম সরকার তাঁকে বের করে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল? তা নিয়ে একাধিকবার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

মৌলবাদীদের চাপে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। পরে ২০০৪ সালে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন কলকাতায়। বাংলা ভাষার শহর কলকাতাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি। দিনে দিনে সাহিত্যিক মহলে বেড়ে ওঠে পরিচিতি। বাম নেতাদের সঙ্গেও তৈরি হয় সুসম্পর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত সে সবই ছিন্ন হয়ে যায়।

পরে তসলিমাকে ঘিরে কলকাতাতেও বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে। তাঁর লেখা ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে শুরু হয় অশান্তি। তাঁর শিরচ্ছেদের নিদান দিতে শুরু করে কোনও কোনও মৌলবাদী সংগঠন। কেউ বলে, ক্ষমা চাইতে হবে লেখিকাকে। ২০০৭ সালে হায়দরাবাদের ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনে’র বিধায়করা তসলিমা নাসরিনের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন।

কলকাতায় থাকাকালীন, এখানকার ‘গণদর্পণ’ সংগঠনের কাছে দেহদানের অঙ্গীকার পর্যন্ত করেছিলেন তসলিমা। কিন্তু তারপরও তসলিমার এই ‘প্রিয় শহরে’ই জারি হয় ফতোয়া। তসলিমার মাথার দাম ঘোষণা করতে শুরু করে মৌলবাদীরা। ২১ নভেম্বর তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল শহরে। তাঁর আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘দ্বিখন্ডিত’ নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। কলকাতা খিলাফত কমিটির অনুরোধে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে, বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছিল কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের একাংশ। এরপর, বইটি নিষিদ্ধ করেছিল বাম সরকার। তারপর নিরাপত্তার স্বার্থে কলকাতা ছাড়তে বলা হয় তসলিমাকে।

পরে তসলিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ২০০৭ সালে তাঁকে সাড়ে চার মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও কলকাতাকে আঁকড়ে ছিলেন তিনি। তিনি লিখেছিলেন, “অসহায় নিরীহ নির্বাসিত, নির্যাতিত, সৎ ও আপসহীন মানুষটির জীবন কতটুকু দুর্বিষহ হয়েছিল, সে কথা আজ আর নাই বললাম।”

এরপর তৃণমূল জমানা এসেছে। চলেও গিয়েছে। তসলিমা আসেননি। কোনও উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। এবার বিজেপি সরকারের আমলে সেই কলকাতা আবার পা রাখবেন তিনি। আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা।

Follow Us