শ্যাম্পু কি অজান্তেই কেড়ে নিচ্ছে চুলের জেল্লা? এই ৫ ভুল শুধরে নিলেই চুল থাকবে ফুরফুরে
সব শ্যাম্পুতেই কম-বেশি রাসায়নিক থাকে। তবে বাজারে এমন কিছু শ্যাম্পু রয়েছে যা স্রেফ কেমিক্যালে ঠাসা। কেনার আগে উপাদানের তালিকায় অবশ্যই নজর রাখুন। চেষ্টা করুন ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদান বেশি আছে এমন শ্যাম্পু বেছে নিতে। অতিরিক্ত রাসায়নিক মাথার ত্বকের ক্ষতি করার সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও কমিয়ে দেয়।

ঘন, রেশমি একরাশ চুলের স্বপ্ন কে না দেখেন! সেই স্বপ্নের খোঁজে নামী-দামি ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু থেকে শুরু করে বিউটি পার্লারের ট্রিটমেন্ট-চেষ্টা তো চলেই। কিন্তু জানেন কি, আপনার এই যত্নই অনেক সময় চুলের বারোটা বাজিয়ে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? ভাবছেন তো কীভাবে? আসলে স্নানের সময় শ্যাম্পু করার এমন কিছু অভ্যেস অনেকের মধ্যে গেঁথে গিয়েছে, যা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে। দামি প্রোডাক্ট মেখেও যখন চুল ঝরছে বা জেল্লা হারাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে গোড়াতেই গলদ থেকে গিয়েছে। শ্যাম্পু করার সময় অজান্তেই কী কী ভুল করেন জেনে নিন।
প্রথম সমস্যা হল চুলের প্রকৃতি না বুঝেই যা হোক একটা শ্যাম্পু মাথায় ঢালেন অনেকেই। আপনার বন্ধু বা কোনও বিজ্ঞাপনের চটকদার কথা শুনে শ্যাম্পু কিনলে তা আপনার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। কারও চুল তৈলাক্ত, কারও আবার শুষ্ক। তাই নিজের চুলের ধরণ বুঝে সঠিক শ্যাম্পু বেছে নেওয়াটা খুব জরুরি। ভুল শ্যাম্পুর ব্যবহারের কারণেই কিন্তু দিনের শেষে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে।
সব শ্যাম্পুতেই কম-বেশি রাসায়নিক থাকে। তবে বাজারে এমন কিছু শ্যাম্পু রয়েছে যা স্রেফ কেমিক্যালে ঠাসা। কেনার আগে উপাদানের তালিকায় অবশ্যই নজর রাখুন। চেষ্টা করুন ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদান বেশি আছে এমন শ্যাম্পু বেছে নিতে। অতিরিক্ত রাসায়নিক মাথার ত্বকের ক্ষতি করার সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও কমিয়ে দেয়।
অনেকে মনে করেন যত বেশি শ্যাম্পু ঘষা হবে আর যত বেশি জল দিয়ে ধোয়া হবে, চুল তত পরিষ্কার থাকবে। এই ধারণাটাই ভুল। মাত্রাতিরিক্ত শ্যাম্পু বা ঘনঘন চুলে জল ঢাললে চুলের নিজস্ব তৈলাক্ত ভাব এবং স্বাভাবিক পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবেন, শ্যাম্পুর কাজ ময়লা পরিষ্কার করা, কিন্তু সেই টানে যদি চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেওয়া হয়, তবে চুল খসখসে হয়ে যেতে বাধ্য।
শ্যাম্পু করার সময় অনেকেই বেশি মনোযোগী হন চুলের ডগার দিকে। কিন্তু ময়লা, খুসকি বা ঘাম জমে থাকে মাথার তালুতে বা স্কাল্পে। ফলে স্কাল্প ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে সমস্যা থেকেই যায়। স্নানের সময় আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে স্কাল্প মাসাজ করে শ্যাম্পু করলে তবেই আসল ফল পাওয়া যাবে।
শ্যাম্পু তো করেন, কিন্তু কন্ডিশনার ব্যবহার করেন না? তবে আপনার চুলের যত্ন কিন্তু অর্ধেকই থেকে যাচ্ছে। শ্যাম্পু করার ফলে চুলের রোমকূপগুলো খুলে যায়, কন্ডিশনার সেগুলোকে আর্দ্রতা জোগায় এবং চুলে এক ধরণের সুরক্ষা কবচ তৈরি করে। তাই শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার না ব্যবহার করার ভুলটা আর কখনও করবেন না।
স্নানের প্রতিদিনের রুটিন থেকে এই ছোট ছোট ভুলগুলো মুছে ফেললেই দেখবেন, আপনার চুল হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল আর ঝলমলে।
