e

ডায়েট মানেই পনির, এই ধারণায় এবার বদল আসার সময় হয়েছে। সম্প্রতি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডক্টর শুভম বৎসের একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বেশ কিছু তথ্যের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, চিজ আসলে পনিরের চেয়েও গুণী। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সঠিক প্রচার বা মার্কেটিংয়ের অভাবে চিজকে আমরা ‘আনহেলদি’ বা জাঙ্ক ফুডের অংশ বলে ধরে নিয়েছি।
প্রোটিনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
সাধারণত নিরামিষাশী মানুষেরা প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে পনিরকেই বেছে নেন। কিন্তু ডক্টর বৎসের দেওয়া পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো। তাঁর মতে:
প্রোটিন: ১০০ গ্রাম পনিরে যেখানে ১৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে, সেখানে ১০০ গ্রাম আনপ্রসেসড (Unprocessed) চিজে প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ২৫ গ্রাম।
ক্যালোরি: ক্যালোরির বিচারে পনির একটু হালকা। ১০০ গ্রাম পনিরে ২৫০ ক্যালোরি থাকলেও চিজে থাকে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি।
ফ্যাট: পনিরে ফ্যাটের পরিমাণ ২০ গ্রাম, অন্যদিকে চিজে তা ৩৩ গ্রাম।
আপনার জন্য কোনটি সেরা?
প্রোটিনের নিরিখে চিজ এগিয়ে থাকলেও, ফ্যাট এবং ক্যালোরির হিসেবে আবার পনির জয়ী। তাই আপনার শরীরের প্রয়োজন বুঝে ডায়েট নির্বাচন করা উচিত। ডক্টর শুভম বৎসের পরামর্শ অনুযায়ী:
১. ওজন কমাতে চাইলে: আপনি যদি ওজন কমানোর লড়াইয়ে থাকেন, তবে কম ক্যালোরি ও কম ফ্যাটযুক্ত পনির আপনার জন্য সেরা বিকল্প। ২. ওজন ও পেশি বাড়াতে চাইলে: যারা ওজন বাড়াতে চাইছেন বা বডি বিল্ডিং করছেন, তাদের জন্য চিজ অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ এতে প্রোটিনের ঘনত্ব অনেক বেশি।
বিশেষ সতর্কতা
পুষ্টিবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, আমরা সাধারণত পিৎজা বা বার্গারে যে চিজ খাই, তা প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড চিজ। স্বাস্থ্যের উপকার পেতে হলে সর্বদা ‘আনপ্রসেসড’ বা প্রাকৃতিক চিজ বেছে নেওয়া জরুরি। শেষ পর্যন্ত পনির হোক বা চিজ— পরিমিত বোধ এবং সঠিক সময় মেনে খাবার গ্রহণই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।