‘রোজমেরি জল’ কী সত্যিই কমাতে পারে চুল পড়া? কী বলছে গবেষণা?
আরও একটি সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে, রোজমেরি তেল মিশ্রিত কিছু তেল ব্যবহারে চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্বে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই গবেষণাগুলি বেশিদিনের নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বর্তমান সময়ে চুল পড়ার সমস্যা ঘরে ঘরে। চুল ভালো রাখতে একের পর এক প্রোডাক্ট ব্যবহার করে যাচ্ছেন? তবুও কমছে না চুল পড়া? চুল পড়া রোধ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে রোজমেরি জলের (rosemary water) এর নাম। অনেকেই বলছেন, ঘরে তৈরি এই জলই নাকি চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই দাবি কতটা সত্যি? আদপেও কি রোজমেরি জল চুলের জন্য কার্যকর, না কি এটা শুধু ট্রেন্ড? কী বলছেন চিকিৎসকরা? গবেষণাই বা কী বলছে?
কী এই রোজমেরি জল (rosemary water)?
রোজমেরি একটি সুগন্ধি ভেষজ গাছ। এর পাতা জলে ফুটিয়ে যে হালকা ইনফিউশন তৈরি করা হয়, তাকেই বলা হয় রোজমেরি জল । অনেকে চুল ধোয়ার পর স্ক্যাল্পে এটি স্প্রে হিসেবে ব্যবহার করেন। গবেষণা কী বলছে? রোজমেরি জল নিয়ে সরাসরি বড় কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি। তবে রোজমেরি থেকে তৈরি রোজমেরি তেল নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা রয়েছে।
২০১৫ সালে একটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েব সাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, নিয়মিত রোজমেরি তেল ব্যবহার করলে চুল পড়া কমতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চুলের ঘনত্ব বাড়তে পারে।
আরও একটি সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল স্টাডিতে, রোজমেরি তেল মিশ্রিত কিছু তেল ব্যবহারে চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্বে উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে এই গবেষণাগুলি বেশিদিনের নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল জানার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
তাহলে রোজমেরি জল কী একেবারেই কার্যকরী নয়?
চিকিৎসকদের মতে, রোজমেরি জলে রোজমেরির সক্রিয় উপাদান অনেকটাই পাতলা হয়ে যায়। তাই তেলের মতো প্রভাব আশা করা ঠিক নয়। তবে রোজমেরি জলের কিছু উপকার থাকতে পারে যেমন স্ক্যাল্প পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে, হালকা চুলকানি বা খুশকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল কিছুটা বাড়াতে পারে।
বেশ কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজমেরি জল স্ক্যাল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করলেও নিশ্চিতভাবে চুল গজানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজমেরি তেল চুলের যত্নের সাহায্য করতে পারে, কিন্তু জেনেটিক কারণে চুল পড়া, হরমোনজনিত সমস্যা বা অ্যালোপেশিয়ার মতো অবস্থায় শুধু ভেষজ উপায়ের ওপর ভরসা না করাই ভালো। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
