Avoid Cold in Office AC: বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি, অফিসে কনকনে এসি! ব্যাগে এই ৪টি জিনিস থাকলেই আরাম পাবেন!
Prevent cold in monsoon: বাড়ি থেকে বেরনোর সময় রোদ, আর মাঝরাস্তায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি! দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে একেবারে কাকভেজা অবস্থা। আর সেই ভেজা শরীরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসির ঠান্ডা হাওয়া মানেই জ্বর নিশ্চিত। এই মরশুমে সুস্থ থাকতে ব্যাগে কোন দরকারি জিনিসগুলো রাখা সবচেয়ে জরুরি, তা জানেন কি?

বর্ষার বৃষ্টি (Monsoon Rain) মানেই এক অদ্ভুত খামখেয়ালিপনা। বাড়ি থেকে পরিপাটি হয়ে বেরনোর সময় হয়তো কড়া রোদ। কিন্তু মাঝরাস্তায় যেতেই হয়তো দেখা গিয়েছে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। ছাতা থাকলেও অনেক সময় রেহাই মেলে না। বাস বা অটো থেকে নেমে অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে আপনি একেবারে কাকভেজা। আর অফিসে ঢুকেই আসল বিপত্তি। অফিসের এসি যেন ঠিক কুমেরুর ঠান্ডা! ভেজা শরীরে এই কনকনে হাওয়া লাগলেই সর্দি-জ্বর একেবারে বাঁধাধরা। কিন্তু রোজ রোজ তো আর অফিস কামাই করা যায় না। তাই এই মরশুমে সুস্থ থাকতে ব্যাগে রাখুন কয়েকটি দরকারি জিনিস।
ভেজা শরীর আর এসি, কেন এত বিপদ?
চিকিৎসকরা সব সময় বলেন, ভেজা শরীরে এসির হাওয়া লাগানো খুব ক্ষতিকর। কারণ, বৃষ্টির জল এমনিতেই ঠান্ডা। তার উপর ভেজা শরীরে এসির হাওয়া লাগলে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেকটা কমে যায়। এই হঠাৎ তাপমাত্রার বদল আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খুব দুর্বল করে দেয়। ফলে খুব সহজেই ভাইরাসের আক্রমণ ঘটে। শুরু হয় সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা বা জ্বর। কিন্তু উপায় কী? অফিসের এসির রিমোট তো আর আপনার হাতে নেই! তাই নিজেকেই নিতে হবে আগাম প্রস্তুতি।
আপনার রোজকার ব্যাগের মধ্যে এই কয়েকটি জিনিস রাখলে বর্ষায় অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকা যায়।
তোয়ালে এবং একপ্রস্থ শুকনো জামা: অফিসে পৌঁছে ভেজা জামায় বসে থাকলে গায়ে বসে জ্বর আসা কেউ আটকাতে পারবে না। তাই ব্যাগে সব সময় একটি ছোট, পরিষ্কার তোয়ালে বা গামছা রাখুন। অফিসে ঢুকে সবার আগে ভেজা চুল ও মুখ ভালো করে মুছে নিন। মাথা শুকনো রাখাটা সব থেকে বেশি জরুরি। এর সঙ্গেই ব্যাগে রাখুন একটা অতিরিক্ত সাধারণ টি-শার্ট বা কুর্তি। অফিসে পৌঁছে ভেজা জামা বদলে শুকনো পোশাক পরে নিলে ঠান্ডার হাত থেকে অনেকটাই বাঁচা যায়।
ইউক্যালিপটাস তেল: এসির ঠান্ডা হাওয়ায় নাক বন্ধ হয়ে আসা বা মাথা ধরার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। এর থেকে বাঁচতে ব্যাগে ছোট এক শিশি ইউক্যালিপটাস তেল রাখতে পারেন। এটি এক দারুণ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। রুমালে বা টিস্যু পেপারে মাত্র দু’ফোঁটা তেল দিয়ে মাঝে মাঝে শুঁকতে থাকুন। এর গন্ধে বন্ধ নাক নিমেষে খুলে যাবে এবং মাথা ব্যথাও দূর হবে। সর্দি-কাশির ভাইরাসকে দূরে রাখতে এর কোনও তুলনা নেই।
এক কৌটো ভাজা জোয়ান বা লবঙ্গ: এসির ঠান্ডায় শরীর ভেতর থেকে গরম রাখা খুব দরকার। চা বা কফি তো অফিসে খাওয়াই যায়। কিন্তু ভেজা শরীরে ভেতর থেকে গরম হতে জোয়ানের জুড়ি মেলা ভার। ব্যাগে ছোট একটা কৌটোতে সামান্য নুন দিয়ে ভাজা জোয়ান বা কয়েকটি লবঙ্গ রাখুন। অফিসে পৌঁছে অল্প একটু জোয়ান চিবিয়ে খেয়ে নিন। এটি শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং গলা খুসখুস বা কাশির হাত থেকে বাঁচায়।
গরম জল বা আদা-চা: এসির ঠান্ডায় শরীর ভেতর থেকে গরম রাখা খুব দরকার। ভেজা শরীরে অফিসে ঢুকে এক গ্লাস গরম জল খেতে পারলে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়। চাইলে ব্যাগে একটা ছোট ফ্লাস্ক রাখতে পারেন। বাড়ি থেকে গরম জল বা আদা-চা বানিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তাতে। আদা, লবঙ্গ বা তুলসী পাতা দেওয়া চা খেলে গলায় খুব আরাম পাওয়া যায়। আর এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।
বর্ষার দিনে একটু বুদ্ধি করে চললেই বড় কোনও রোগব্যাধি এড়ানো যায়। তাই পরের বার আকাশ মেঘলা দেখলে অফিসে বেরনোর আগে ব্যাগটা একবার চেক করে নিন। দেখে নিন, ব্যাগে এই দরকারি জিনিস আছে কি না! সুস্থ থাকুন, আর মন খুলে কাজ করুন।
