মেয়াদ ফুরোনো অ্যান্টিসেপটিক লাগাচ্ছেন? ছোট ক্ষতও হতে পারে বড় বিপদ!
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিটি ওষুধের একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক স্থায়িত্ব থাকে। অ্যান্টিসেপটিকের মূল কাজ হল ক্ষতের চারপাশের জীবাণু ধ্বংস করা এবং সংক্রমণ আটকানো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর এর কার্যকারিতা কমতে শুরু করে।

রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে আঙুল চিরে যাওয়া কিংবা বিকেলে মাঠে খেলতে গিয়ে শিশুর হাঁটু ছড়ে যাওয়া— দৈনন্দিন জীবনে এমন ছোটখাটো চোট-আঘাত লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রথম কাজ হল আলমারি থেকে অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড বা ক্রিম বের করে ক্ষতে লাগানো। কিন্তু কখনও কি খেয়াল করেছেন, যে ওষুধটি আপনি ব্যবহার করছেন সেটির মেয়াদ আদৌ আছে তো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদ ফুরোনো অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা মানে হিতে বিপরীত হওয়া। নিজের অজান্তেই আপনি ছোট ক্ষতকে বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
কেন মেয়াদ ফুরোনো অ্যান্টিসেপটিক বিপজ্জনক?
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিটি ওষুধের একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক স্থায়িত্ব থাকে। অ্যান্টিসেপটিকের মূল কাজ হল ক্ষতের চারপাশের জীবাণু ধ্বংস করা এবং সংক্রমণ আটকানো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের পর এর কার্যকারিতা কমতে শুরু করে।
রাসায়নিক পরিবর্তন: মেয়াদ শেষের পর অ্যান্টিসেপটিকের ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলোর গঠন বদলে যেতে পারে। তখন এটি আর জীবাণু মারতে সক্ষম থাকে না।
উল্টে সংক্রমণ: মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া তরল বা ক্রিমে অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। সেই বিষাক্ত উপাদান ক্ষতে লাগালে তা সরাসরি রক্তে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ত্বকের ক্ষতি: পুরনো কেমিক্যাল ত্বকে লাগালে মারাত্মক জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতস্থান পচে গিয়ে পুঁজ হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
শিশু, বয়স্ক ও ডায়াবেটিক রোগীদের ঝুঁকি
মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহারের প্রভাব সবার ওপর সমান হয় না। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে সামান্য সংক্রমণও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি চরম বিপজ্জনক। কারণ তাদের শরীরে সাধারণ ক্ষত শুকোতেই অনেক সময় লাগে। সেখানে যদি মেয়াদ ফুরোনো ওষুধের কারণে নতুন করে সংক্রমণ হয়, তবে তা গ্যাংগ্রিন বা সেপসিসের মতো প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
খোলার কতদিন পর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য?
অনেকেই ওষুধের গায়ে লেখা ‘এক্সপায়ারি ডেট’ দেখেন, কিন্তু বোতল খোলার পর কতদিন তা ঠিক থাকে সেদিকে নজর দেন না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একটি অ্যান্টিসেপটিক বোতল খোলার পর তাতে বাতাস ও আর্দ্রতা প্রবেশ করে। যদি ঢাকনা ঠিকমতো না লাগানো হয় বা অপরিষ্কার হাতে ব্যবহার করা হয়, তবে বোতলের ভেতরেই জীবাণু জন্মাতে শুরু করে। তাই কেনার তারিখের পাশাপাশি বোতলটি কবে খোলা হয়েছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। সাধারণত খোলার ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক বদলে ফেলা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
ক্ষত পরিষ্কার করার আগে নিজের হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে তারপরই নতুন ও মেয়াদী অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন। যদি দেখেন ক্ষতের চারপাশ অস্বাভাবিক ফুলে গিয়েছে, তীব্র ব্যথা হচ্ছে বা জ্বর আসছে, তবে বাড়িতে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার বাড়ির ফার্স্ট এইড বক্সটি কি আজই পরীক্ষা করে দেখবেন? কোনও মেয়াদ ফুরোনো ওষুধ থাকলে তা আজই সরিয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন, সামান্য সচেতনতাই বড় বিপদ রুখে দিতে পারে।
