কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে চুল একেবারে নষ্ট? জানুন সমাধানের উপায়
' British Association of Dermatologists– Hair Structure & Chemical Exposure' এর তথ্য অনুযায়ী , চুলের গঠন মূলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের সময় ব্যবহৃত শক্ত রাসায়নিক চুলের এই প্রাকৃতিক প্রোটিন স্তর ভেঙে দেয় আর তাতেই চুলের কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলেই চুল পাতলা ও দুর্বল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুষ্কতা, আগা ফেটে যাওয়া, চুল সহজে ভেঙে পড়া, স্ক্যাল্পে চুলকানির মত সমস্যা দেখা যায়।

চুল সুন্দর ও স্টাইলিশ রাখার জন্য অনেকেই স্ট্রেটনিং, স্মুথেনিং, রিবন্ডিং, কেরাটিন বা নিয়মিত হেয়ার কালার—এর মত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করে থাকেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অনেকের চুলই হয়ে উঠছে রুক্ষ, শুষ্ক। চুলে স্পিট করছে কিংবা ঝরে পড়ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করার পর নষ্ট চুল কি আবার আগের মতো স্বাভাবিক করা সম্ভব?
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফেরা বেশ কঠিন হলেও সঠিক যত্ন নিলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে গেলে আগে জানতে হবে ক্ষতির কারণ।
কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে চুল কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় জানেন?
‘ British Association of Dermatologists– Hair Structure & Chemical Exposure’ এর তথ্য অনুযায়ী , চুলের গঠন মূলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি। কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের সময় ব্যবহৃত শক্ত রাসায়নিক চুলের এই প্রাকৃতিক প্রোটিন স্তর ভেঙে দেয় আর তাতেই চুলের কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলেই চুল পাতলা ও দুর্বল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুষ্কতা, আগা ফেটে যাওয়া, চুল সহজে ভেঙে পড়া, স্ক্যাল্পে চুলকানির মত সমস্যা দেখা যায়।
কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের পর হেয়ার ফল কেন বাড়ে?
‘Journal of Cosmetic Dermatology – Chemical Hair Damage Studies’- এ বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী কেমিক্যালের কারণে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুলের স্বাভাবিক গ্রোথ সাইকেলে সমস্যা দেখা যায় এবং হেয়ার ফল বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললে চুলের ঘনত্ব কমে যেতে থাকে।
নষ্ট চুল ঠিক করতে কী কী করা জরুরি?
কেমিক্যাল থেকে বিরতি নিন, কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ মাস নতুন কোনও কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট না করাই ভাল। এতে চুলের গোড়া কিছুটা হলেও নিজেকে হিল করার সময় পায়
কঠিন কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু চুল আরও শুষ্ক করে তোলে। সালফেট ও প্যারাবেন-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ২–৩ বারের বেশি শ্যাম্পু করাকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত হেয়ার মাস্ক, ডিপ কন্ডিশনিং ও কেরাটিন রিপেয়ার ট্রিটমেন্ট চুলের ভাঙন কমাতে সাহায্য করে।
হিট স্টাইলিং করা কমাতে হবে। স্ট্রেটনার, ব্লো ড্রায়ার চুলের ক্ষতি করে।
চুল সুস্থ রাখতে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, বায়োটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি।
হেয়ার ফল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, স্ক্যাল্পে জ্বালা, ব্যথা বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
