e

পুজো-পার্বন থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন— কর্পূরের ব্যবহার বহুমুখী। ঘরোয়া পরিবেশে কর্পূর জ্বালালে যেমন ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, তেমনই এর সুগন্ধে মন শান্ত থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, বর্তমানে বাজারে আসল কর্পূরের চেয়ে রাসায়নিক মেশানো সিন্থেটিক কর্পূরের রমরমা বেশি। অশুদ্ধ বা রাসায়নিকযুক্ত কর্পূর ত্বকের ক্ষতি তো করেই, এর ধোঁয়া স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সাধারণত ‘সিনামোমাম ক্যামফোরা’ (Cinnamomum camphora) নামক গাছের ডাল, কাঠ বা ছাল থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় (Steam Distillation) আসল কর্পূর তৈরি করা হয়। কীভাবে চিনবেন আপনার কেনা কর্পূরটি খাঁটি না কি রাসায়নিক মেশানো? রইল ৫টি সহজ পদ্ধতি:
খাঁটি কর্পূর চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তা জ্বালিয়ে দেখা। আসল কর্পূর পুড়লে কোনও অবশিষ্টাংশ বা ছাই থাকে না, এটি পুরোপুরি বাতাসে মিলিয়ে যায়। কিন্তু নকল বা ভেজাল মেশানো কর্পূর পুড়লে প্লেটে কালো দাগ বা ছাই পড়ে থাকে এবং এর থেকে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়।
আসল কর্পূরের গঠন অনেকটা স্ফটিক বা ক্রিস্টালের মতো হয়। এটি খুব সহজেই ভেঙে ফেলা যায় এবং এর মধ্যে এক ধরনের স্বচ্ছতা থাকে। অন্যদিকে, সিন্থেটিক কর্পূর যদি অতিরিক্ত সাদা, কালচে বা হলদেটে হয় এবং ভাঙতে শক্ত লাগে, তবে বুঝবেন তাতে রাসায়নিক মেশানো আছে।
খাঁটি কর্পূরের একটি মনোরম এবং ভেষজ ঘ্রাণ থাকে যা নাকে লাগলে অস্বস্তি হয় না। কিন্তু কেমিক্যালযুক্ত নকল কর্পূর থেকে উগ্র এবং বিটকেল গন্ধ বেরোয়। কেনার সময় গন্ধ শুকলেই আপনি আসল ও নকলে তফাত বুঝতে পারবেন।
একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে কর্পূরের টুকরো ফেলে দিন। খাঁটি বা ভীমসেনি কর্পূর ওজনে ভারী হওয়ায় তা জলের নিচে ডুবে যায়। কিন্তু সিন্থেটিক বা ভেজাল কর্পূর জলের উপরে ভাসতে থাকে এবং এটি জলে গুলতে অনেক বেশি সময় নেয়।
খাঁটি কর্পূর উদবায়ী প্রকৃতির। একটি পাত্রে কিছুটা কর্পূর খোলা অবস্থায় ফেলে রাখুন। যদি তা আসল হয়, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যাবে তার আকার ছোট হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে তা কর্পূরের মতো উবে যাচ্ছে। কিন্তু ভেজাল মেশানো কর্পূরের আকার বা ওজনে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না।
বাজার থেকে কর্পূর কেনার সময় এই ছোট ছোট বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনি যেমন ঠকবেন না, তেমনই পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত করতে পারবেন।