
শীতকালীন আনাজের মধ্যে ফুলকপি আমাদের চিরকালীন পছন্দের। তবে কয়েক বছর ধরে বাজার দখল করেছে এর ‘বিদেশি তুতো ভাই’ ব্রোকোলি। ডায়েট চার্টে কোনটি রাখা বেশি লাভজনক, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই দোটানায় পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুটি সবজিই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ব্রোকোলি ফুলকপিকে টেক্কা দিচ্ছে।
ফুলকপি এবং ব্রোকোলি—উভয়ই ‘ক্রুসিফেরাস’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ফুলকপির ভোজ্য অংশটি হল সাদা রঙের ফুলের স্তবক, আর ব্রোকোলি সাধারণত গাঢ় সবুজ বা বেগুনি রঙের হয়। স্বাদের ক্ষেত্রে ফুলকপি কিছুটা মিষ্টি ও নমনীয়, অন্যদিকে ব্রোকোলি একটু বেশি ফাইবারযুক্ত ও শক্ত।
পুষ্টিবিদদের মতে, ভিটামিন এবং খনিজের বিচারে ব্রোকোলি কিছুটা এগিয়ে। একটি তুলনামূলক আলোচনা নিচে দেওয়া হল, ব্রোকোলিতে ফুলকপির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন কে-ও ব্রোকোলিতে বেশি। চোখের দৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ ব্রোকোলিতে প্রচুর থাকলেও ফুলকপিতে এর পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে।
যারা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য দুটিই আদর্শ কারণ দুটিতেই ক্যালোরি খুব কম। তবে ফাইবারের পরিমাণ ব্রোকোলিতে সামান্য বেশি। ক্যানসার প্রতিরোধক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ‘সালফোরাফেন’ ব্রোকোলিতে অনেক বেশি মাত্রায় থাকে।
ব্রোকোলি এগিয়ে থাকলেও ফুলকপির নিজস্ব গুণ রয়েছে। ফুলকপিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ‘কোলিন’, যা মস্তিষ্কের বিকাশে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের উৎস হিসেবে ফুলকপি হার্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই সবজির গুনাগুণ বজায় রাখতে খুব বেশিক্ষণ ভাজা বা মশলা দিয়ে কষানো উচিত নয়। পরিবর্তে হালকা ভাপে সেদ্ধ (Steaming) বা অল্প তেলে নাড়াচাড়া (Stir-fry) করে খেলে পুষ্টি বজায় থাকে। বিশেষ করে ব্রোকোলি খুব বেশি সেদ্ধ করলে তার ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়।
শরীরের জন্য দুটিই সুপারফুড। তাই কেবল একটির ওপর নির্ভর না করে ঋতুভেদে দুটি সবজিই খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। তবে যারা রক্তাল্পতা বা চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ব্রোকোলি বেশি কার্যকরী। অন্যদিকে, সহজলভ্যতা ও দামের নিরিখে সাধারণ মানুষের জন্য ফুলকপি আজও সেরা বিকল্প।