
বসন্ত পঞ্চমীর সকালে হলুদ শাড়ির বাহার আর ছোটদের হাতেখড়ির পাশাপাশি যে বিষয়টির জন্য আপামর বাঙালি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে, তা হল সরস্বতী পুজোর ভোগের খিচুড়ি। সাধারণত আমরা ভাজা মুগ ডালের খিচুড়ি খেয়েই অভ্যস্ত। তবে এ বছর দেবীর আরাধনায় আপনার হেঁশেলে আসতে পারে স্বাদের বদল। সাবেকিয়ানা আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই ‘ রাজকীয় খিচুড়ি’ আপনার পুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলবে।
যা যা লাগবে
গোবিন্দভোগ চাল: ২ কাপ
সোনা মুগ ডাল: ১.৫ কাপ
ঘি: আধ কাপ
পনির কিউব: ১০০ গ্রাম (নতুন স্বাদ আনতে)
সবজি: ফুলকপি, মটরশুঁটি, নতুন আলু ও গাজর।
মশলা: আদা বাটা, কাঁচা লঙ্কা চেরা, হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো।
ফোড়ন: তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, এলাচ, দারুচিনি এবং লবঙ্গ।
বিশেষ উপকরণ: কাজু, কিশমিশ এবং সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো।
এভাবে তৈরি করুন-
১. প্রথমে শুকনো কড়াইতে মুগ ডাল হালকা লাল করে ভেজে ধুয়ে নিন। গোবিন্দভোগ চালও ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে তাতে সামান্য ঘি ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন। এতে খিচুড়ির গন্ধ ও বর্ণ দুই-ই খোলতাই হয়।
২. কড়াইতে ঘি গরম করে পনিরের টুকরো, ফুলকপি এবং আলু সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
৩. ওই ঘিয়েই গোটা গরম মশলা ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। মিষ্টি গন্ধ বেরোলে আদা বাটা ও জিরে গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে কষান। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে আগে থেকে মাখিয়ে রাখা চাল ও ডাল দিয়ে দিন।
৪. চাল-ডাল মশলার সাথে মিনিট পাঁচেক ভাজুন। এরপর পরিমাণমতো গরম জল (চাল-ডালের দ্বিগুণ) দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন ও চেরা কাঁচা লঙ্কা দিন। চাল আধা সেদ্ধ হয়ে এলে ভাজা সবজি, পনির, কাজু ও কিশমিশ দিয়ে ঢাকা দিন।
৫. খিচুড়ি মাখোমাখো হয়ে এলে ওপর থেকে আরও এক চামচ ঘি, সামান্য চিনি এবং শাহী গরম মশলা ছড়িয়ে দিন। মিনিট পাঁচেক ঢাকা দিয়ে রেখে দিলেই তৈরি আপনার বিশেষ ভোগের খিচুড়ি।
গরম গরম এই খিচুড়ির সাথে পরিবেশন করুন বেগুন ভাজা, বাঁধাকপির তরকারি এবং অবশ্যই টমেটোর মিষ্টি চাটনি। মা সরস্বতীর ভোগে এই সামান্য নতুনত্ব আপনার পরিবারের সদস্যদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাবে। মনে রাখবেন, ভোগের খিচুড়িতে জল সবসময় ফুটিয়ে ব্যবহার করবেন, এতে চাল দলা পাকিয়ে যায় না এবং স্বাদ অটুট থাকে।