Home Remedies: গরম চা-কফিতে মুখের ভিতরের চামড়া পুড়েছে? ঘরোয়া টোটকায় ঝটপট সারিয়ে ফেলুন
Health Tips: গরম তরল মুখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তালু বা জিভ অবশ হয়ে যায় এবং তীব্র জ্বালাভাব শুরু হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন’ বা প্রথম স্তরের দহন। এই পরিস্থিতিতে মুখের ভেতরের চামড়া এতটাই সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে পরবর্তী কয়েকদিন সাধারণ খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সকাল সকাল চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে কিংবা তাড়াহুড়ো করে গরম কফি খেতে গিয়ে জিভ বা মুখের ভেতরের নরম চামড়া পুড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। গরম তরল মুখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তালু বা জিভ অবশ হয়ে যায় এবং তীব্র জ্বালাভাব শুরু হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন’ বা প্রথম স্তরের দহন। এই পরিস্থিতিতে মুখের ভেতরের চামড়া এতটাই সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যে পরবর্তী কয়েকদিন সাধারণ খাবার খাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা নিয়ে প্যানিক করার কিছু নেই। রান্নাঘরে থাকা অত্যন্ত সাধারণ কিছু ঘরোয়া টোটকার মাধ্যমেই এই জ্বালা ও ক্ষত ঝটপট সারিয়ে ফেলা সম্ভব। জেনে নিন এমন কিছু ম্যাজিক দাওয়াই।
মুখের চামড়া পুড়লে প্রথম ও প্রধান কাজ হল সেই জায়গার তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা। ক্ষতের গভীরতা কমাতে ঠান্ডা জল অত্যন্ত কার্যকরী।
মুখ পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্রিজের ঠান্ডা জল মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। জল গরম হয়ে গেলে ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে ঠান্ডা জল মুখে নিন। এভাবে ১০-১৫ মিনিট ধরে কুলকুচি করুন। মুখের ভেতর একটি ছোট বরফের টুকরো রেখে আলতো করে চুষতে পারেন। তবে বরফ সরাসরি ক্ষতের ওপর চেপে ধরবেন না।
মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ভরপুর। এটি ক্ষতস্থানকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি সেখানে নতুন চামড়া গজাতে এবং ইনফেকশন রুখতে সাহায্য করে।
মুখ ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার পর এক চামচ খাঁটি মধু নিয়ে মুখের পোড়া অংশে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণের জন্য লালা গিলবেন না, মধুকে তার কাজ করতে দিন। দিনে ৩-৪ বার এটি করলে জ্বালাভাব দ্রুত কমে যাবে।
অ্যালোভেরার ঠান্ডা করার ক্ষমতা (Soothing property) পোড়া ক্ষতের জন্য মহৌষধ। মুখের ভেতরের ফোস্কা বা ক্ষত নিরাময়ে এটি দারুণ কাজ করে।
বাজারচলতি কৃত্রিম জেল নয়, অ্যালোভেরা গাছের পাতা থেকে টাটকা জেল বের করে নিন। সেই জেলের সামান্য অংশ মুখের ভেতরের পোড়া অংশে লাগিয়ে রাখুন। এটি জ্বালা তো কমাবেই, সঙ্গে ভেতরের চামড়াকে দ্রুত সুস্থ করবে।
টক দইয়ের প্রাকৃতিকভাবেই শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা রয়েছে। মুখের পুড়ে যাওয়া চামড়ায় দই লাগালে তা সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি দেয়।
ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা টক দই এক চামচ মুখে নিয়ে পোড়া জায়গাটায় কিছুক্ষণ হোল্ড করুন। দইয়ের ঠান্ডা ভাব মুখের চামড়ার ভেতরের জ্বালা এক ঝটকায় কমিয়ে দেয়।
পোড়া চামড়ায় ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আটকাতে নুন-জল অত্যন্ত উপাদেয়। এটি মুখের ভেতরের ক্ষতকে দ্রুত শুকিয়ে যেতে সাহায্য করে।
এক গ্লাস হালকা গরম জলে আধ চামচ নুন ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার সেই জল দিয়ে দিনে ৩-৪ বার আলতো করে কুলকুচি বা গার্গল করুন।
মুখের চামড়া পুড়ে যাওয়ার পর অন্তত ২-৩ দিন অতিরিক্ত ঝাল, মশলাদার বা টক জাতীয় খাবার একদম এড়িয়ে চলুন। এই সময়ে কোনও গরম পানীয় বা শক্ত খাবার খাবেন না, যা ক্ষতের চামড়াকে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ঘরোয়া উপায়েও যদি ২-৩ দিনের মধ্যে জ্বালা না কমে বা পুড়ে যাওয়া অংশে পুঁজ বা ঘা দেখা দেয়, তবে আর দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
