How to make soft coconut Naru: জেনে নিন ঠিক কতক্ষণ ও কীভাবে পাক দিলে নাড়ু তুলতুলে নরম হয়
Kojagari Lakshmi Puja: বাঙালির কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই আলপনা, শাঁখের ধ্বনি আর হেঁশেল থেকে ভেসে আসা নারকেল ও তিলের নাড়ুর গন্ধ। তবে পুজোমণ্ডপে প্রসাদ হিসেবে বা অতিথিদের পাতে নারকেল নাড়ু কিংবা তিলের নাড়ু তুলে দেওয়ার আগে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটির মুখে পড়তে হয়— তা হল নাড়ুর ‘সঠিক পাক’!

মা দুর্গা বিদায় নিলেও বাঙালিদের ঘরে ঘরে শুরু হয় দেবী লক্ষ্মীর আবাহন। আর বাঙালির কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো মানেই আলপনা, শাঁখের ধ্বনি আর হেঁশেল থেকে ভেসে আসা নারকেল ও তিলের নাড়ুর গন্ধ। তবে পুজোমণ্ডপে প্রসাদ হিসেবে বা অতিথিদের পাতে নারকেল নাড়ু কিংবা তিলের নাড়ু তুলে দেওয়ার আগে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটির মুখে পড়তে হয়— তা হল নাড়ুর ‘সঠিক পাক’!
কখনও দেখা যায় অতিরিক্ত কড়া পাকের জন্য নাড়ু শক্ত পাথরের মতো হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনও পাক কম হওয়ার কারণে নাড়ু গড়তেই পারা যাচ্ছে না— জালের মতো ঝুরঝুরে হয়ে ভেঙে পড়ছে। নিখুঁত নাড়ু বানানোর পুরো রহস্যটাই লুকিয়ে রয়েছে আগুনের আঁচ, গুঁড় বা চিনির পরিমাপ এবং সঠিক সময় বুঝে কড়াই নামানোর ‘কায়দা’ বা পাকের ওপর।
নিখুঁত নাড়ুর প্রথম শর্তই হল সঠিক নারকেল বেছে নেওয়া। খুব কচি বা অতিরিক্ত ঝুনো নারকেল নাড়ুর জন্য উপযুক্ত নয়।
নারকেল কোরানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে কালো মালার অংশটুকু নারকেল কোরায় না মেশে। শুধু ধবধবে সাদা অংশটাই ব্যবহার করা ভালো।
নারকেল কোরা এবং গুঁড় বা চিনির অনুপাত হওয়া উচিত ২:১। অর্থাৎ দুই কাপ কোরা নারকেলের জন্য এক কাপ গুড় বা চিনি আদর্শ।
গুড়ের নাড়ু এবং চিনির নাড়ুর পাক দেওয়ার নিয়মে কিছুটা পার্থক্য থাকে:
কড়াইতে গুড় ও নারকেল একসঙ্গে দিয়ে একদম ধিমে আঁচে বসাতে হবে। মাঝারি আঁচে ক্রমাগত নেড়ে যেতে হবে যাতে নিচে ধরে না যায়। গুড় গলতে শুরু করলে ধীরে ধীরে পাক আসতে থাকবে।
চিনির ক্ষেত্রে নারকেল কোরার সঙ্গে চিনি আগে ভালো করে হাত দিয়ে মেখে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে চিনি থেকে সামান্য জল বের হবে, যা কড়াইতে দিলে মসৃণভাবে গলে পাক তৈরি করবে।
নাড়ুর পাক বোঝার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ঘড়ি ধরা সময়ের চেয়ে অভিজ্ঞ হাতের স্পর্শ ও কিছু ঘরোয়া পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী:
১. কড়াইতে নাড়ু নাড়তে নাড়তে যখন দেখা যাবে মিশ্রণটি আর কড়াইয়ের গায়ে লেগে থাকছে না, মণ্ডের মতো এক জায়গায় দলা পাকিয়ে আসছে— বুঝবেন পাক শেষের দিকে।
২. একটি পাত্রে সামান্য ঠান্ডা জল নিয়ে কড়াই থেকে এক ফোঁটা নাড়ুর মিশ্রণ তাতে ফেলুন। যদি মিশ্রণটি জলে ছড়িয়ে না গিয়ে জলের তলদেশে একটা গোল গুলির মতো জমে যায় এবং আঙুল দিয়ে তোলা যায়, তবে বুঝবেন পাক একদম পারফেক্ট!
৩. বুড়ো আঙুল ও শাহাদাত আঙুলের মাঝে সামান্য মিশ্রণ নিয়ে চাপ দিলে যদি তারের মতো (One-string consistency) আঠা তৈরি হয়, তবেই বুঝবেন পাক তৈরি।
৪. পাক হয়ে যাওয়ার পর কড়াই থেকে নামিয়েই দ্রুত নাড়ু পাকাতে হয়, কিন্তু অতিরিক্ত গরমে হাত পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
৫. নাড়ু গড়ার আগে দু’হাতের তালুতে সামান্য ঘি বা এক ফোঁটা জল লাগিয়ে নিন। এতে নাড়ুর উপরিভাগ মসৃণ হবে এবং হাতে মিশ্রণ আটকে যাবে না।
৬. মিশ্রণ একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেলে কিন্তু আর নাড়ুর গোল আকৃতি দেওয়া যাবে না, শক্ত হয়ে জমে যাবে। তাই হালকা গরম থাকা অবস্থাতেই দ্রুত হাতে নাড়ু গড়ে নিতে হবে।
