ভুল শ্যাম্পু ব্যবহারেই বারোটা বাজাচ্ছেন চুলের, সঠিক শ্যাম্পু বাছবেন কীভাবে?
চুল রং করা থাকলে বা নিয়মিত স্টাইলিং করলে আলাদা যত্ন দরকার। রাসায়নিক ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে কোমল, রং-রক্ষাকারী শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি কম হয়। অনেকেই কেবল বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনেন। কিন্তু লেবেলে কী লেখা আছে, সেটাও পড়া জরুরি। খুব বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।

বাথরুমের ড্রেন ভর্তি চুল, আঁচড়ালেই গোছা গোছা চুল উঠে আসছে এই দৃশ্য এখন অনেকেরই চেনা। চুল পড়া শুরু হলে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে নতুন শ্যাম্পু কিনে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি, ভুল শ্যাম্পু সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে? তাই চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার চুলের ধরণ কী, আর স্ক্যাল্প কী চাইছে।
কীভাবে বুঝবেন?
প্রথমেই মাথার ত্বককে গুরুত্ব দিন। যদি ত্বক খুব তেলতেলে হয়, তাহলে হালকা, গভীরভাবে পরিষ্কার করে এমন শ্যাম্পু বেছে নিন। এতে অতিরিক্ত তেল জমে চুলের গোড়া দুর্বল হবে না। আর যদি ত্বক শুষ্ক হয়, তাহলে আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন উপাদান আছে কি না দেখুন। শুষ্ক মাথায় বেশি কড়া পরিষ্কারক উপাদান ব্যবহার করলে চুলের বারোটা বাজতে পারে।
চুল রং করা থাকলে বা নিয়মিত স্টাইলিং করলে আলাদা যত্ন দরকার। রাসায়নিক ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে কোমল, রং-রক্ষাকারী শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি কম হয়। অনেকেই কেবল বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনেন। কিন্তু লেবেলে কী লেখা আছে, সেটাও পড়া জরুরি। খুব বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—প্রোটিন বা পুষ্টিকর উপাদান আছে কি না সেটা দেখে শ্যাম্পু কিনুন। দুর্বল চুলে এমন শ্যাম্পু দরকার যা গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত প্রোটিনও সব সময় ভালো নয়। তাই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
খুশকির সমস্যাও অনেক সময় চুল পড়ার বড় কারণ। স্ক্যাল্পে সংক্রমণ বা অতিরিক্ত খুশকি থাকলে সাধারণ শ্যাম্পুতে কাজ নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসামূলক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে বড় কথা, শ্যাম্পু একা চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না। সঠিক খাবার, মানসিক চাপ কমানো আর নিয়মিত যত্ন—সব মিলিয়েই চুল সুস্থ থাকে। তাই সমস্যা বাড়ার আগেই নিজের চুলকে বুঝুন, তারপর পণ্য বেছে নিন। অতিরিক্ত সমস্যা দেখা গেলে অবশ্যই ডার্মাটোলজিস্ট এর পরামর্শ নিন।
