Oil Free Fish Fry Recipe: তেল লাগবেই না! জলেই ভাজুন মুচমুচে ‘Tasty’ মাছ ভাজা
Fry fish using water instead of oil: কড়ায় তেল না দিয়েও একদম মুচমুচে মাছ ভাজা বানানো যায়, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। শরীরের বাড়তি মেদ আর তেলের ভয় এড়িয়ে কীভাবে স্রেফ জলেই ভেজে নেবেন মাছ? শিখে নিন কায়দাটা

মাছ ভাজা (Fish Fry) নামটা শুনলেই জিভে জল আসে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া সত্যি মুশকিল! কিন্তু আজকাল শরীর ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে পাত থেকে কড়া করে ভাজা মাছ ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিংবা রক্তে কোলেস্টেরল ও বাড়তি ওজনের ভয়ে ডুবো তেলের চর্বিকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু প্রিয় খাবারটা একদম বাদ দিয়ে খালি পেটে মন খারাপ করে থাকা কি সম্ভব?
তবে এবার সেই চিন্তা ছাড়ুন! কারণ কড়ায় এক ফোঁটা তেল না ঢেলেও যে একদম কড়া আর সুস্বাদু করে মাছ ভেজে ফেলা যায়, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। তাও জল ব্যবহার করে! শুনতে চমকে ওঠার মতো মনে হলেও, তেল ছাড়া স্রেফ জলের ভাপেই তৈরি হয়ে যায় জিভে জল আনা মাছ ভাজা।
পুরো ব্যাপারটা কিন্তু একদমই সোজা। কীভাবে বানিয়ে ফেলবেন আর কী কী সহজ ধাপ মানবেন?
মাছ ম্যারিনেট করা: প্রথমে মাছের পিসগুলোকে ভালো করে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে ফেলুন। এরপর ওপর থেকে একটু লেবুর রস ছড়িয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। তারপর সাধারণ নিয়মেই এক এক করে এক চামচ হলুদ গুঁড়ো, হাফ চামচ লঙ্কা গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন, হাফ চামচ জিরে গুঁড়ো, হাফ চামচ ধনে গুঁড়ো আর সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে মাছের গায়ে ভালো করে মাখিয়ে রাখুন। চাইলে মাছের সুন্দর গন্ধের জন্য ম্যারিনেটের সময় স্রেফ হাফ চামচ সর্ষের তেল দিয়ে দিতে পারেন।
ভাপানোর চতুর উপায়: রান্নার আসল জাদু রয়েছে এর ভাজার কায়দায়। এই উপায়ে মাছ ভাজতে কড়াইতে বাড়তি কোনও তেল ঢালার দরকারই পড়বে না। তাওয়া যাতে পুড়ে নষ্ট না হয়ে যায় এবং মাছের গায়ে মাখানো মসলা যাতে আটকে থাকে, তার জন্য তাওয়ার ওপর একটি কলাপাতা বিছিয়ে দিন। কলাপাতার ওপর মসলা মাখানো মাছ সাজিয়ে দিয়ে উপর থেকে আরও একটি কলাপাতা ও তাওয়ার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন।
জলের ছিটে: গ্যাসের আঁচ মাঝারি রেখে ঢেকে ভাপ হতে দিন। পাঁচ মিনিট পর ঢাকনাটা খুলে তাওয়ার খালি জায়গায় হাতে করে সামান্য একটু জল ছিটিয়ে দিতে হবে। এই জলের গরম বাষ্পেই মাছ ভেতর থেকে খুব সুন্দর সেদ্ধ হয়ে যাবে এবং তাওয়ার তাপে বাইরের অংশটা বেশ লালচে আর পোড়া-পোড়া টেক্সচার পাবে।
উল্টে নিয়ে ভেজে নেওয়া: এক পিঠ ভালোমতো সেদ্ধ হয়ে গেলে কলাপাতা সহ মাছটি সাবধানে উল্টে দিন। একই নিয়মে আবারও চারপাশে সামান্য জল ছিটিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন আরও পাঁচ মিনিটের জন্য।
পুষ্টিবিদদের মতে, কড়াইয়ের অতিরিক্ত রিফাইনড তেলের ক্ষতিকর চর্বি এড়িয়ে এইভাবে রান্না করা মাছ হজম করা যেমন সহজ, তেমনই শরীরের জন্য পুষ্টিকরও। গরম গরম মাছের ওপর একটু লেবুর রস আর পাশে পেঁয়াজ কুচি সাজিয়ে দিলে বাড়ির কেউ ধরতেই পারবে না যে এতে কড়াই ভর্তি তেল দেওয়া হয়নি। যারা সুস্থ থাকতে চান কিন্তু স্বাদের সঙ্গে আপস করতে নারাজ, তাদের জন্য এই অভিনব ঘরোয়া কৌশল সত্যি দুর্দান্ত সমাধান।
