Health Tips: কীভাবে বুঝবেন মাছে ‘ফরমালিন’ দেওয়া? কীভাবেই বা ধুয়ে মুছে সাফ করবেন?
Formalin in Fish Food Safety: মাছকে দীর্ঘদিন তাজা দেখাতে এবং পচন রোধ করতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন মারাত্মক রাসায়নিক 'ফরমালিন'। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশ করলে পেটের জটিল রোগ, লিভার ও কিডনির ক্ষতি থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধি ডেকে আনতে পারে।

বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে যেন আহার সম্পন্ন হয় না। তবে এই প্রিয় মাছই এখন অনেক সময় স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাছকে দীর্ঘদিন তাজা দেখাতে এবং পচন রোধ করতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন মারাত্মক রাসায়নিক ‘ফরমালিন’। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশ করলে পেটের জটিল রোগ, লিভার ও কিডনির ক্ষতি থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধি ডেকে আনতে পারে। তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে বাজারেই ফরমালিনযুক্ত মাছ চেনা সম্ভব এবং ঘরে এনেও তা রাসায়নিক মুক্ত করা যায়।
তাজা মাছের চোখ লালচে বা কালচে স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখায়। ফরমালিন দেওয়া মাছের চোখ ঘোলাটে, ভেতরের দিকে বসে যাওয়া বা সাদাটে হয়ে যায়। একইভাবে তাজা মাছের ফুলকো থাকে টকটকে লাল ও আর্দ্র, অন্যদিকে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকো শুকনো, কালচে বা ধূসর দেখায়। তাজা মাছে মিষ্টি ও স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধ থাকে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত মাছে আঁশটে গন্ধ প্রায় থাকেই না, বরং ঝাঁঝালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যায়।
বাজারের যে মাছে মাছি বসছে না বা কোনও পোকামাকড় ভিড়ছে না, সেটি ফরমালিনযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মাছি বা পোকা মাছের স্বাভাবিক পচন ও গন্ধে আকৃষ্ট হয়, যা ফরমালিন থাকলে পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।
তাজা মাছের গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে জায়গাটি ডেবে গিয়ে আবার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ফরমালিন মেশানো মাছের শরীর শক্ত ও শক্ত কাঠের মতো অনুভব হতে পারে অথবা আঙুলের চাপ দিলে গর্ত হয়ে থেকে যায়।
তাজা মাছের গায়ে স্বাভাবিক পিচ্ছিল ভাব (স্লাইম) থাকে, যা ধুলে সহজে যেতে চায় না। ফরমালিনযুক্ত মাছের গায়ের সেই পিচ্ছিল তরল শুকিয়ে যায়।
ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে মাছ ফরমালিন মুক্ত করবেন?
মাছ কাটার পর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এরপর প্রতি লিটার জলে দুই টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে সেই জলে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট মাছ ডুবিয়ে রাখুন। লবণ জল মাছের উপরিভাগ ও ভেতরে থাকা ফরমালিন দ্রুত টেনে বের করে আনে।
এক লিটার জলে এক কাপ ভিনেগার অথবা আধ কাপ লেবুর রস মিশিয়ে তাতে কাটা মাছ ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অ্যাসিডিক উপাদান ফরমালিনের রাসায়নিক গঠনকে নষ্ট করতে সাহায্য করে।
চাল ধোয়া জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে মাছ ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিন সহজেই দূর হয়।
মাছ রান্নার আগে হালকা গরম জল দিয়ে অন্তত দু-তিনবার ভালো করে ধুয়ে নিন। গরম জল ফরমালিনের মাত্রা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
সচেতনতাই ফরমালিন বিষক্রিয়া থেকে বাঁচার মূল চাবিকাঠি। মাছ কেনার সময় তাড়াহুড়ো না করে চোখ, ফুলকো ও গন্ধ পরীক্ষা করে কেনা এবং বাড়িতে এনে সঠিকভাবে রাসায়নিক মুক্ত করে রান্না করাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার একমাত্র উপায়।
