How to remove iron from water: কাপড়ে দাগ থেকে চুলের ক্ষতি! জলের আয়রন দূর করুন এই ৪টি সহজ ঘরোয়া উপায়ে
Water Purification Tips: অনেকেই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে দামি ওয়াটার পিউরিফায়ার বা ওয়াটার সফটনার ব্যবহার করেন। তবে সবার পক্ষে সেই ব্যয়বহুল ফিল্টার কেনা সম্ভব হয় না। চিন্তার কিছু নেই, খুব সাধারণ কিছু বৈজ্ঞানিক ও ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগিয়েই কল বা টিউবওয়েলের জল থেকে আয়রন সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব।

সকালবেলা কল খুলতেই লালচে বা হলদেটে জল? বালতি, বাথরুমের মেঝে কিংবা বেসিনে কয়েকদিনেই পড়ে যাচ্ছে জেদি আয়রনের দাগ? শুধু তাই নয়, এই অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত জল ব্যবহারের ফলে সাধের জামাকাপড় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া এবং মারাত্মক চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই জল।
অনেকেই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে দামি ওয়াটার পিউরিফায়ার বা ওয়াটার সফটনার ব্যবহার করেন। তবে সবার পক্ষে সেই ব্যয়বহুল ফিল্টার কেনা সম্ভব হয় না। চিন্তার কিছু নেই, খুব সাধারণ কিছু বৈজ্ঞানিক ও ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগিয়েই কল বা টিউবওয়েলের জল থেকে আয়রন সম্পূর্ণ দূর করা সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সহজ উপায়গুলো>
জল থেকে আয়রন আলাদা করার এটি সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রাকৃতিক নিয়ম হল একটি বড় বালতি বা ড্রামে জল ভরে অন্তত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা স্থিরভাবে রেখে দিন। বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে জলের দ্রবীভূত আয়রন আয়রন-অক্সাইডে পরিণত হবে এবং ভারী হয়ে পাত্রের নিচে লালচে থিতানি হিসেবে জমে যাবে। এবার ওপর থেকে পরিষ্কার জলটি অন্য পাত্রে ঢেলে নিন। নিচের আয়রনযুক্ত জলটুকু ফেলে দিন।
যদি দ্রুত জলের আয়রন দূর করতে চান, তবে ফিটকিরি বা চুন ব্যবহার করতে পারেন। এতে জল একেবারে কাচের মতো স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
এক বালতি জলে সামান্য একটু ফিটকিরি গুঁড়ো করে ভালো করে মিশিয়ে দিন। ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে জল কাচের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং সমস্ত আয়রন নিচে থিতিয়ে পড়বে।
বাড়িতেই একদম নিখরচায় একটি কার্যকর ফিল্টার বানিয়ে নিতে পারেন। একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির নিচে ছোট একটি ফুটো করে পাইপ লাগিয়ে নিন। এবার বালতির একদম নিচে প্রথমে এক স্তর পরিষ্কার নুড়ি পাথর, তার ওপর কাঠকয়লার স্তর, এবং সবার ওপরে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া মোটা বালির স্তর দিন। এবার ওপর থেকে আয়রনযুক্ত জল ঢাললে, তা এই স্তরগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আয়রন বালির স্তরে আটকে যাবে এবং কাঠকয়লা জলের গন্ধ শুষে নেবে। নিচে পাইপ দিয়ে বের হওয়া জল হবে একদম পরিষ্কার।
জলের আয়রন দূর করার পাশাপাশি জলকে জীবাণুমুক্ত করতেও ব্লিচিং পাউডার দারুণ কাজ করে। আয়রনযুক্ত জলে পরিমাণমতো ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে আয়রন নিচে জমা হয়। তবে এই জল পানের চেয়ে কাপড় কাচা বা স্নানের জন্য ব্যবহার করাই শ্রেয়।
আয়রনযুক্ত জলে ভুলেও ডিটারজেন্ট দিয়ে দামি জামাকাপড় কাচবেন না, এতে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কাপড় চিরতরে হলদে হয়ে যায়। কাপড় কাচার আগে জলটি ফিটকিরি বা থিতানো পদ্ধতিতে পরিষ্কার করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
