Ice cream headache: আইসক্রিম খেলেই মাথা ধরে? কেন জানেন? এড়িয়ে চলুন কেবল এই বিষয়টা
Ice cream headache: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন খুব ঠান্ডা কোনও খাবার বা পানীয় খুব দ্রুত আমাদের তালু বা গলার পিছনের অংশে স্পর্শ করে, তখন সেখানকার রক্তনালীগুলো হঠাৎ ভীষণ সংকুচিত হয়ে যায়। এর পরপরই শরীর ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত রক্তপ্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করে। ফলে রক্তনালীগুলো দ্রুত প্রসারিত হয়।

ফ্রিজ থেকে আইসক্রিমটা বার করেই মুখে দিলেন। কনকনে ঠান্ডায় তো দাঁত শিরশির করেই, কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেরই আবার মাথাও ধরে যায়। যেন মনে হয় মাথায় একটা কারেন্টের শক্ লাগল। কিন্তু কেন এমনটা মনে হয়? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর একটা কঠিন নাম রয়েছে।বলা হয় স্পেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউরালজিয়া। তবে চলতি কথায় এটিকে ‘ব্রেইন ব্রিজ’ বা ‘আইসক্রিম হেডেক’ বলা হয়।
বিষয়টা ঠিক কী? কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়?
রক্তনালীর হঠাৎ সংকোচন ও প্রসারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন খুব ঠান্ডা কোনও খাবার বা পানীয় খুব দ্রুত আমাদের তালু বা গলার পিছনের অংশে স্পর্শ করে, তখন সেখানকার রক্তনালীগুলো হঠাৎ ভীষণ সংকুচিত হয়ে যায়। এর পরপরই শরীর ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত রক্তপ্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করে। ফলে রক্তনালীগুলো দ্রুত প্রসারিত হয়।
ত্রিশূলী স্নায়ু বা ট্রাইজেমিনাল নার্ভের ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের আরও অনেকে বলেন, মুখ, তালু ও মাথার সামনের অংশের স্নায়ু সংযোগের মূল দায়িত্বে থাকে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ।
মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি
যেহেতু এই একই স্নায়ু সংকেত কপাল এবং মাথার সামনের অংশ থেকেও মস্তিষ্কে তথ্য নিয়ে যায়, তাই মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। যখন ঠান্ডা কিছু খান সেটা মূলত আপনার টাকরা বা আপার প্যালেট এ লাগে, এই জায়গায় ট্রাইজেমিনাল নার্ভের ম্যাক্সিলারি cnv2 ভাগটা থাকে, যেটা মুখের হঠাৎ করে ঠান্ডা হয়ে যাওয়াটা ধরতে পেরে প্যানিক করে বসে, ঠান্ডায় প্রথমে রক্তনালী দ্রুত সংকুচিত হয়, আর পরক্ষণেই রক্তনালীগুলি বড় করে দেয় শরীর যাতে তাড়াতাড়ি গরম রক্ত আসতে পারে। এই ব্যথার সিগন্যালটাই ট্রাইজেমিনাল নার্ভ দ্রুত ব্রেনে পাঠায়, যেটার উৎস ব্রেন বুঝতে না পেরে গোটা মাথা জুড়েই ব্যথাকে ছড়িয়ে দেয়।
ব্রেইন ফ্রিজ হলে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার উপায়:
-
জিভ তালুতে চেপে ধরুন: মুখের জিভটিকে চ্যাপ্টা করে তালুর ওপর শক্ত করে চেপে রাখুন। জিভের উষ্ণতায় তালুর তাপমাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
-
উষ্ণ জল পান করুন: সামান্য সাধারণ বা কুসুম গরম জল পান করলে আরাম পাওয়া যায়।
-
হাত দিয়ে মুখ ঢেকে শ্বাস নিন: হাতের তালু দিয়ে মুখ ও নাক ঢেকে গরম শ্বাস ভেতরে নিলে মুখের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ে।
