AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bajrangbali Mandir: বাধা লেগেই রয়েছে? জীবনের কোন সমস্যায় পুজো দেবেন হনুমানজির কোন মন্দিরে? রইল ৮ বিখ্যাত মন্দিরের ঠিকানা!

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের সমস্যা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে যান ভক্তরা। ইতিহাস, লোককথা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরগুলির পরিচিতি। দেখে নেওয়া যাক, দেশের এমনই আটটি বিখ্যাত হনুমান মন্দিরের কথা।

Bajrangbali Mandir: বাধা লেগেই রয়েছে? জীবনের কোন সমস্যায় পুজো দেবেন হনুমানজির কোন মন্দিরে? রইল ৮ বিখ্যাত মন্দিরের ঠিকানা!
বজরংবলীImage Credit: Tv9 Bangla
| Updated on: Nov 01, 2026 | 5:20 PM
Share

জীবনে কখনও একের পর এক বাধা, কখনও পারিবারিক অশান্তি, আবার কখনও কর্মক্ষেত্রে সমস্যা। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, অনেকেই ভরসা রাখেন বজরংবলীর উপর। ভক্তদের বিশ্বাস, ভগবান হনুমান শক্তি, সাহস, আনুগত্য ও ভক্তির প্রতীক। মন থেকে তাঁর আরাধনা করলে জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি পাওয়া যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হনুমান মন্দিরগুলিতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের সমস্যা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ কিছু হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে যান ভক্তরা। ইতিহাস, লোককথা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরগুলির পরিচিতি। দেখে নেওয়া যাক, দেশের এমনই আটটি বিখ্যাত হনুমান মন্দিরের কথা।

১. সংকটমোচন মন্দির, বারাণসী

নামেই রয়েছে এর মাহাত্ম্য। বারাণসীর সংকটমোচন হনুমান মন্দিরকে মনে করা হয় বিপদ ও বাধা কাটানোর অন্যতম পবিত্র স্থান। জীবনে বারবার সমস্যা, বাধা কিংবা দুর্ভাগ্যের মুখে পড়লে অনেকেই এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে হনুমানজিকে বেসনের লাড্ডু নিবেদন করার প্রচলন রয়েছে। পাশাপাশি হনুমান চালিশা পাঠ এবং সন্ধ্যারতি দর্শনও ভক্তদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

২. জাখু মন্দির, সিমলা

সিমলার সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত জাখু মন্দির। এখানে রয়েছে ১০৮ ফুট উঁচু লাল রঙের হনুমান মূর্তি, যা পর্যটক ও ভক্তদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। বিশ্বাস, জীবনে নতুন কাজ শুরু করার আগে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে অনেকে এখানে আশীর্বাদ নিতে আসেন। মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রার্থনা করেন ভক্তরা। মন্দিরে ফুল নিবেদন, ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানো এবং সুন্দরকাণ্ড পাঠের প্রচলন রয়েছে। তবে এখানে প্রচুর বাঁদর দেখা যায়। তাই খাবার দেওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. মহাবীর মন্দির, পটনা

বিহারের পটনায় অবস্থিত মহাবীর মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি হনুমান মন্দির। পারিবারিক সুখ-শান্তি, সন্তানের মঙ্গল এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার কামনায় বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে মিষ্টি নিবেদন ও প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় বেশি হয়।

৪. মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দির, রাজস্থান

রাজস্থানের মেহেন্দিপুর বালাজি মন্দির দেশের অন্যতম আলোচিত হনুমান মন্দির। এখানে হনুমানজিকে বালরূপে পুজো করা হয়। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা ধরনের বিশেষ ধর্মীয় আচার ও লোকবিশ্বাস। ভক্তদের বিশ্বাস, ভয়, অশান্তি এবং নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন বহু মানুষ। দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা, অজানা ভয় কিংবা দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তির আশাতেও অনেকে এই মন্দিরে পুজো দেন।

৫. নামাক্কাল আঞ্জনেয়ার মন্দির, তামিলনাড়ু

তামিলনাড়ুর নামাক্কালে অবস্থিত এই মন্দিরে হনুমানের এক বিশেষ রূপের পুজো করা হয়। পাথরের তৈরি এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য। বিশেষ করে নেশার আসক্তি কাটিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে ইচ্ছুক মানুষেরা এখানে প্রার্থনা করতে আসেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। নিয়মিত মন্ত্রজপ ও প্রার্থনার মাধ্যমে মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার কামনা করেন ভক্তরা।

৬. কর্মনঘাট হনুমান মন্দির, হায়দরাবাদ

কর্মক্ষেত্রে বাধা, চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিংবা পেশাগত জীবনের নানা সমস্যার মধ্যে পড়লে অনেকেই হায়দরাবাদের কর্মনঘাট হনুমান মন্দিরে পুজো দিতে যান। এটি একটি প্রাচীন মন্দির। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে হনুমানজির কাছে প্রার্থনা করলে কর্মজীবনের বাধা কাটানোর সাহস ও শক্তি পাওয়া যায়। ফুল নিবেদন এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করার রীতি রয়েছে। মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ পুজো দিতে আসেন বহু মানুষ।

৭. সালাসার বালাজি মন্দির, রাজস্থান

উত্তর ভারতের অন্যতম বিখ্যাত হনুমান মন্দির সালাসার বালাজি। মনের গোপন ইচ্ছা পূরণ এবং মানত করার জন্য এই মন্দিরে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই থাকে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, অনেকে এখানে নারকেল ও লাল সুতো বেঁধে নিজের মনস্কামনা জানান। মন্দিরের বিশেষ প্রসাদ বাজরার তৈরি চুরমা। ভক্তদের বিশ্বাস, মনস্কামনা পূরণ হলে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আবার মন্দিরে ফিরে এসে পুজো ও প্রসাদ নিবেদন করতে হয়।

৮. হনুমানগড়ি মন্দির, অযোধ্যা

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত হনুমানগড়ি মন্দিরও অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান রামের জন্মভূমির রক্ষক হিসেবে হনুমানজি এখানে বিরাজ করেন। পারিবারিক সমস্যা, প্রিয়জনদের সুরক্ষা এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির প্রার্থনা নিয়ে বহু ভক্ত এই মন্দিরে আসেন। এখানে হনুমানজিকে সিঁদুর নিবেদন এবং প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। মন্দিরে হনুমান চালিশা পাঠও বিশেষ গুরুত্ব পায়। হনুমান জয়ন্তী ও রামনবমী উপলক্ষে মন্দিরে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই মন্দিরগুলি। জীবনের কঠিন সময়ে অনেকেই ঈশ্বরের আরাধনার মধ্যে মানসিক শান্তি ও সাহস খুঁজে পান। সেই বিশ্বাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই হনুমান মন্দিরগুলিতে বছরভর ভক্তদের সমাগম ঘটে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মন্দিরগুলির সঙ্গে যুক্ত সমস্যা দূর হওয়ার বিষয়গুলি প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথার উপর ভিত্তি করে লেখা। এগুলিকে নিশ্চিত ফল বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

Follow Us