ইন্ডাকশন না এলপিজি- কোনটা বাঁচাবে পকেট?
কিন্তু প্রশ্ন হল, কারেন্ট বিলের ভয়ে যে ইন্ডাকশনকে অনেকেই দূরে সরিয়ে রাখতেন, ২০২৬ সালের দাঁড়িয়ে সেই ইন্ডাকশন কি সত্যিই গ্যাসের চেয়ে সস্তা? নাকি মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে কপালে হাত পড়বে? চলুন, চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখে নেওয়া যাক আগামীর রান্নাঘর কার দখলে থাকবে।

রান্নাঘরের সেই চিরচেনা আগুনের শিখা কি এবার তবে ইতিহাস হতে চলেছে? বাজারের যা হাল, তাতে মধ্যবিত্তের পকেটে টান দিয়ে রান্নার গ্যাসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে অনেকেই এখন বিকল্প খুঁজছেন। সেই বিকল্পের নাম ‘ইন্ডাকশন কুকার’। কিন্তু প্রশ্ন হল, কারেন্ট বিলের ভয়ে যে ইন্ডাকশনকে অনেকেই দূরে সরিয়ে রাখতেন, ২০২৬ সালের দাঁড়িয়ে সেই ইন্ডাকশন কি সত্যিই গ্যাসের চেয়ে সস্তা? নাকি মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল দেখে কপালে হাত পড়বে? চলুন, চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখে নেওয়া যাক আগামীর রান্নাঘর কার দখলে থাকবে।
খুব সহজ করে বললে, গ্যাসের চুলায় রান্না করার সময় অর্ধেক তাপই হাওয়াতে চলে যায়। মানে আপনি ১০০ টাকার গ্যাস পুড়ালে কাজ হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকার। বাকি ৬০ টাকাই নষ্ট হচ্ছে! উল্টোদিকে, ইন্ডাকশন সরাসরি আপনার কড়াইকে গরম করে। এখানে তাপ অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। অর্থাৎ, এখানে ১০০ টাকার বিদ্যুতের মধ্যে ৯০ টাকারই কাজ হচ্ছে। এখনকার আধুনিক প্রযুক্তিতে এই সাশ্রয় আরও বেড়েছে।
হিসেব কষে দেখা গিয়েছে, বর্তমানে একটি ১০-১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের যে খরচ, সমপরিমাণ রান্নার জন্য ইন্ডাকশনে ইলেকট্রিক বিল আসবে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। মাসে যদি আপনার গ্যাসের পেছনে ১০০০ টাকা যায়, তবে স্মার্টলি ইন্ডাকশন ব্যবহার করলে সেই খরচ ৬০০-৭০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। মাসে ৩০০ টাকার সাশ্রয় মানে বছরে কিন্তু বড়সড় টাকা বাঁচবে।
ইন্ডাকশনে স্মার্ট রান্নার কিছু ‘ডু’জ অ্যান্ড ডোন্টস’:
ইন্ডাকশন সেকেন্ডের মধ্যে গরম হয়। তাই আগে সবজি বা মশলা গুছিয়ে নিন, তারপর সুইচ টিপুন। কড়াই চাপিয়ে পেঁয়াজ কাটতে বসলে বিল কিন্তু বাড়বে।
স্টিলের বা লোহার চ্যাপ্টা তলার পাত্র ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, তলা যত সমান হবে, বিদ্যুৎ তত কম পুড়বে।
রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে মেইন সুইচ বন্ধ করবেন না। ভেতরের ফ্যানটা কিছুক্ষণ চলতে দিন যাতে মেশিনটা ঠান্ডা হতে পারে। এটা করলে আপনার ইন্ডাকশন অনেক বছর টিকবে।
পুরো রান্না ইন্ডাকশনে করতে অসুবিধা হলে অন্তত ডাল সেদ্ধ, জল গরম বা দুধ ফোটানোর মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো এখানে সারুন। দেখবেন, মাসের শেষে গ্যাসের সিলিন্ডার অনেক বেশিদিন চলছে আর পকেটেও টান পড়ছে না।
