Promise Day 2026: কবে থেকে শুরু হল এই ‘প্রমিস ডে’? জেনে নিন ইতিহাস

Valentine’s Week 2026: উনিশ শতকের শেষের দিকে যখন ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে, তখন এই প্রমিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্পর্কের বাণিজ্যিক দিক (উপহার) থেকে বেরিয়ে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করা। প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে ‘জুনো’ দেবীর নাম স্মরণ করে বিয়ের শপথ নেওয়ার প্রথা থেকেও অনেকে এই দিনের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান।

Promise Day 2026: কবে থেকে শুরু হল এই প্রমিস ডে? জেনে নিন ইতিহাস

|

Feb 09, 2026 | 1:12 PM

গোলাপ, প্রেম নিবেদন, চকোলেট আর টেডির নরম পরশ পার করে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ আজ এক পরিণত ধাপে পা রাখল। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, ‘প্রমিস ডে’। আজকের দিনটি কেবল উপহার আদান-প্রদানের নয়, বরং আগামীর পথচলায় একে অপরের হাত শক্ত করে ধরার অঙ্গীকার করার দিন। ভালোবাসার এই মরসুমে প্রমিস ডে-র গুরুত্ব ও এর ইতিহাস নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই তরুণ প্রজন্মের।

সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ, কিন্তু তা টিকিয়ে রাখা কঠিন। মনোবিদদের মতে, প্রমিস ডে পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের ভেতরে বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটিকে আরও মজবুত করা। ছোট ছোট মান-অভিমান ভুলে সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই এই দিনটির মূল উপজীব্য। তবে মনে রাখতে হবে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি হিতে বিপরীত হতে পারে, তাই যা রক্ষা করা সম্ভব সেই অঙ্গীকারই করা উচিত।

ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর মতো প্রমিস ডে-রও কোনো নির্দিষ্ট একক জন্মদাতা নেই। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগ থেকেই ইউরোপে প্রেমের মাস হিসেবে পরিচিত ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে বিশেষ শপথ বা ‘ওথ’ (Oath) নেওয়ার রেওয়াজ শুরু করেন।

উনিশ শতকের শেষের দিকে যখন ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে, তখন এই প্রমিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সম্পর্কের বাণিজ্যিক দিক (উপহার) থেকে বেরিয়ে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপন করা। প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে ‘জুনো’ দেবীর নাম স্মরণ করে বিয়ের শপথ নেওয়ার প্রথা থেকেও অনেকে এই দিনের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান।

বর্তমানে এই দিনটিকে ঘিরে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। শুধু ব্যক্তিগত স্তরে নয়, সোশাল মিডিয়াতেও অঙ্গীকারের বন্যা বয়ে যায়।

পিঙ্কি প্রমিস: কনিষ্ঠ আঙুলে আঙুল মিলিয়ে ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি দেওয়ার রীতিটি এখনো খুব জনপ্রিয়।

প্রমিস ব্যান্ড: অনেকেই এই দিনে সঙ্গীকে ‘প্রমিস ব্যান্ড’ বা ব্রেসলেট উপহার দেন, যা প্রতিশ্রুতির স্মারক হিসেবে কাজ করে।

ডিজিটাল প্রতিশ্রুতি: দূরত্বের সম্পর্কে যারা আছেন, তাঁরা ভিডিও কল বা বার্তার মাধ্যমে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

প্রমিস ডে-তে আকাশছোঁয়া প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং বাস্তবসম্মত কথা দেওয়া ভালো। যেমন— ‘সবসময় তোমার কথা শুনব’, ‘বিপদের দিনেও তোমার হাত ছাড়ব না’ অথবা ‘আমরা একে অপরের প্রতি সৎ থাকব’। বিশ্বাসই সম্পর্কের মূল ভিত্তি, আর সেই ভিত্তিকেই নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার দিন প্রমিস ডে।